জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরামকোর পরিশোধনাগার বন্ধ

ড্রোন হামলার পর রাস তানুরার পরিশোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরামকো। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার তৃতীয় দিনে আক্রান্তহ হলো সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল কোম্পানি। এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরো বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর রয়টার্স।

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম পরিশোধনাগারের একটি রয়েছে রাস তানুরা কমপ্লেক্সে, যার দৈনিক সক্ষমতা ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল (বিপিডি)। উপকূলীয় স্থাপনাটি সৌদি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানির একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল হিসেবেও কাজ করে।

জানা গেছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাস তানুরার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আল আরাবিয়া টিভিকে বলেন, স্থাপনাটির কাছে দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষের কারণে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

পরিশোধনাগারটি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহসংক্রান্ত উদ্বেগ আরো বাড়তে পারে। কারণ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজার আর্দশ ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দাম সোমবার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক টরবিওর্ন সোল্টভেডটের মতে, রাস তানুরা পরিশোধনাগারে হামলা উত্তেজনা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নির্দেশ করে। উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামো এখন স্পষ্টভাবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ হামলার ফলে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে।’

এ ড্রোন হামলা অঞ্চলে চলমান একাধিক হামলার অংশ। আবুধাবি, দুবাই, দোহা, মানামা ও ওমানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের বেশিরভাগ জ্বালানি তেল উত্তোলন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ রয়েছে। এ অঞ্চলে থেকে ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল তুরস্কে রফতানি হতো।

সৌদি আরবের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত জ্বালানি স্থাপনাগুলো আগেও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দুটি স্থাপনায় নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাময়িকভাবে সৌদি আরবের অর্ধেকের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায় এবং বৈশ্বিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়।

২০২১ সালেও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাস তানুরায় হামলা চালায়।

আরও