ট্রাম্পের কড়া সমালোচক কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি

সোমালিয়ায় জন্ম নেয়া ইলহান ওমর শৈশবে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন, যার মধ্যে মিনিয়াপোলিস শহরও রয়েছে

মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক সদস্য ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার এজেন্টরা। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘নজিরবিহীন মাত্রায় দমন-পীড়ন বৃদ্ধি’ বলে বর্ণনা করেছে ওমরের কার্যালয়। খবর আল জাজিরা।

ওয়াশিংটন ডিসি-সংলগ্ন এলাকায় ওমরের বাড়িতে গতকাল এ তল্লাশি চালানো হয়। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটল।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, সকালে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা এ তল্লাশি চালান।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রয়াত বাবা ওমরের শৈশবে অভিবাসনসংক্রান্ত যেসব নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো ঘিরে জালিয়াতির অভিযোগের সঙ্গে এ তল্লাশির সম্পর্ক রয়েছে।

সোমালিয়ায় জন্ম নেয়া ইলহান ওমর শৈশবে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন, যার মধ্যে মিনিয়াপোলিস শহরও রয়েছে।

বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ওমর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তল্লাশির নিন্দা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এক্সে ওমর লেখেন, ‘আমি ঠিক আছি। ভুল বুঝবেন না, এটি রাজনৈতিক শত্রুদের লক্ষ্যবস্তু এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা।’

তিনি আরো লেখেন, ‘১০ বছর ধরে ট্রাম্প ভিত্তিহীন মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণার মাধ্যমে আমাকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছেন। রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের তার অভিযানে এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ। আমি নীরব হব না।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, আদালতের অনুমোদিত তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেছেন এজেন্টরা। তবে ওমরের নাম উল্লেখ করেনি বিভাগটি কিংবা তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ওমরের কার্যালয় এ অভিযানকে ‘ক্ষমতার ভয়াবহ অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছে।

কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কংগ্রেস সদস্য কোনো অন্যায় করেননি। কোনো প্রেসিডেন্টেরই কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।’

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরো কয়েকজন নেতাও এ অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফরিস, হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাসের চেয়ারম্যান পিট আগুইলার ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বছরের পর বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উগ্র ডানপন্থীরা কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে নোংরা ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে নিরলসভাবে লক্ষ্যবস্তু করে আসছেন।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর ৩০ দিনও বাকি নেই। এরই মধ্যে নির্বিচার গণ-নির্বাসন অভিযান যন্ত্র নেমে এসেছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন কংগ্রেস সদস্য ও তার পরিবারের বাড়িতে।’

তল্লাশির মাত্র কয়েক দিন আগে টেনেসিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে ওমরকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওমর এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যেখানে ‘অপরাধ ও নোংরা পরিবেশ’ রয়েছে। এ সময় তিনি ইঙ্গিত দেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার প্রশাসনের লোকজন ওমরকে নিয়ে তদন্ত করছেন।

তল্লাশির কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ এবং বিষয়টি ‘মূলত বিচার বিভাগের এখতিয়ার’।

এর আগে প্রমাণ ছাড়াই ওমরের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন ভ্যান্স। রক্ষণশীল ধারার পডকাস্টার বেনি জনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ওমরের বিরুদ্ধে কীভাবে তদন্ত করা যায়, তা নিয়ে তিনি ও হোয়াইট হাউজের উপপ্রধান স্টিফেন মিলার আলোচনা করেছেন।

২০১৮ সালে প্রথমবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন ওমর। ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে তিনি ও তার পরিবার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাকে নিয়ে ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগকে ‘অস্বস্তিকর’ বলেও অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই বারবার তার আক্রমণের শিকার হয়ে আসা প্রগতিশীল আইনপ্রণেতাদের দল ‘দ্য স্কোয়াড’-এর সদস্য ওমর।

গত ডিসেম্বরে ওমরসহ অন্যান্য সোমালি অভিবাসীকে ‘আবর্জনা’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। আর ফেব্রুয়ারিতে তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সমালোচনা করার পর ওমর ও ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিবকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার আওতায়’ নেয়ার এবং তারা ‘যেখান থেকে এসেছেন’, সেখানে ফেরত পাঠানোর কথা বলেন প্রেসিডেন্ট।

ওমর কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফ্রিকান শরণার্থী। অন্যদিকে, তিনি ও তালিব ছিলেন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম-আমেরিকান নারী।

গত মাসে মিনেসোটার এক বাসিন্দাকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে এক জনসভা চলাকালে ওই ব্যক্তি ওমরের গায়ে ভিনেগার ছিটিয়ে দেয়। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলছিল। ওই জনসভায় ওমর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আরও