শততম জন্মদিনে গণতন্ত্র নিয়ে সংশয়ের কথা জানালেন মাহাথির মোহাম্মদ

গণতন্ত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘গণতন্ত্র মানুষের তৈরি একটি পদ্ধতি। এটি নিখুঁত নয়। একে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে এর থেকে ভালো কিছু পাওয়া যায় না।’ তার মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্র বরং দুর্বলতা তৈরি করে।

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণময় অধ্যায়ের সাক্ষী মাহাথির মোহাম্মদ। গতকাল ১০ জুলাই শততম বছর পূর্ণ করলেন তিনি। ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল এবং ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই দফায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ আজও দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।

১৯২৫ সালের ১০ জুলাই ব্রিটিশ উপনিবেশ মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন মাহাথির। পেশায় চিকিৎসক হলেও রাজনীতিতে সক্রিয় হন মাত্র ২১ বছর বয়সে। ১৯৬৪ সালে পার্লামেন্টে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন এবং টানা ২২ বছর দায়িত্ব পালন করেন, যেটি দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম। তার শাসনামলে মালয়েশিয়া অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন লাভ করে। ৮০ পেরিয়েও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালে আবারও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে দুই বছর পর রাজনৈতিক জোট ভেঙে পড়ার কারণে পদত্যাগ করেন তিনি।

গত ৪৪ বছরের মধ্যে ২৪ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য যথেষ্ট কৃতিত্বের দাবিদার। ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়া মূলত পণ্য রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রথমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য রাবার ও টিন শিল্পের নিয়ন্ত্রণ করত। পরে পেট্রোলিয়াম, কাঠ ও পাম তেল রফতানিনির্ভর হয়ে পড়ে মালয়েশিয়া। বর্তমানে এ দেশ একটি বৈচিত্র্যময় উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইলেকট্রনিকস এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পণ্য।

শুধু দেশে নয় এশীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই বর্ষীয়ান নেতা জন্মদিনের প্রাক্কালে আনাদুলু অ্যাজেন্সিকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে গণতন্ত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘গণতন্ত্র মানুষের তৈরি একটি পদ্ধতি। এটি নিখুঁত নয়। একে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে এর থেকে ভালো কিছু পাওয়া যায় না।’ তার মতে, বহুদলীয় গণতন্ত্র বরং দুর্বলতা তৈরি করে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মাহাথির সরাসরি অভিযোগ করেন, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ এক ধরনের গণহত্যা, আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের পেছনে থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বনেতা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মালয়েশিয়ার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

আরও