যুক্তরাষ্ট্র প্রতি মাসে ৪ হাজার ৫০০ শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানের শরণার্থী আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্নের লক্ষ্য নিয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত শরণার্থী গ্রহণসীমার তুলনায় অনেক বেশি। এ কার্যক্রমের সহায়তায় প্রিটোরিয়ায় মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে ট্রেলার বা অস্থায়ী অফিস বসানো হচ্ছে। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শরণার্থী আবেদন গ্রহণ ব্যাপকভাবে সীমিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাঝে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের অপ্রকাশিত এক চুক্তিপত্র থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শরণার্থী গ্রহণ দ্রুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ২০২৬ অর্থবছরে সারা বিশ্ব থেকে মোট ৭ হাজার ৫০০ জন শরণার্থী নেয়া হবে। যদিও গত বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হয়েছিল, এ সীমা হবে ৪০-৬০ হাজার। গত মে মাসে চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় গতি কিছুটা বেড়েছে।
এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় সব ধরনের শরণার্থী ভ্রমণ স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স জানিয়েছে, গত বছর ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ পুনর্বাসনের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
২০২৫ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্প বৈধ ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে শরণার্থী গ্রহণ বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে কয়েক সপ্তাহ পর আফ্রিকানার জাতিগোষ্ঠীর শ্বেতাঙ্গদের শরণার্থী হিসেবে নেয়ার উদ্যোগ নেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এ জাতিগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত দেশে সহিংস নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া শরণার্থী বিষয়ক অনেক অধিকারকর্মী ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন।