হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সমুদ্রগর্ভস্থ মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। তবে তেহরানের এ দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। খবর আরব নিউজ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিভ্রান্তিকর তথ্যের ফাঁদে পড়ে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে পেতে রাখা মাইনফিল্ড পার হওয়ার চেষ্টার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। তবে আক্রান্ত ট্যাংকার দুটির নাম কিংবা মালিকানা প্রকাশ করেনি তেহরান।
নাবিকদের সতর্ক করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, নিজেদের মূলধন এবং সর্বোপরি জীবন বাঁচাতে নাবিকদের কোনো প্ররোচনায় পা দিয়ে এ মাইনফিল্ডে প্রবেশ করা উচিৎ হবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ইরানের এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইআরজিসি-র অন্যান্য দাবির মতোই এটিও সম্পূর্ণ অসত্য।
পৃথক আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তারা আরো চারটি জাহাজ আটক করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, গত কয়েক ঘণ্টায় সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তায় আইন অমান্যকারী চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে চারটিকে যথাস্থানে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরান এক সপ্তাহ ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক নৌপথটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তেহরান ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জাহাজগুলো যেন কেবল তাদের উপকূলীয় অঞ্চলের উত্তর করিডোর ব্যবহার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষায় থাকা দক্ষিণের করিডোর যেন এড়িয়ে চলে।