মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের একটি বিরল স্ট্রেনের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও একটি বড় ধরনের মহামারি রুখতে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি নতুন টিকা তৈরির কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। খবর বিবিসি।
এবারের প্রাদুর্ভাবটি ঘটেছে ইবোলার ‘বুন্ডিবুগিও’ স্ট্রেনের কারণে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রাদুর্ভাব ২০১৪-২০১৬ সালের ভয়াবহ ইবোলা সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যেখানে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে কঙ্গো (ডিআরসি) ও উগান্ডায় ইবোলার ১ হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ ও ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাসের প্রকৃত বিস্তার আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল, ইতালি ও অস্ট্রিয়ায় সন্দেহভাজন সংক্রমণ দেখা দিলেও পরীক্ষায় সেগুলো নেগেটিভ এসেছে।
বান্ডিবুগিও স্ট্রেনটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, আক্রান্তদের প্রায় ৫০ শতাংশই এতে মারা যায়। এর কোনো অনুমোদিত টিকাও নেই। বর্তমানে ইবোলার ছয়টি স্ট্রেনের মধ্যে কেবল সবচেয়ে সাধারণ ‘জায়ারে’ স্ট্রেনের টিকা রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় তিনটি প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তিতে প্রতিষেধক তৈরিতে কাজ করছে। টিকাগুলো তৈরিতে অর্থায়ন করছে সেপি।
- আইএভিআই: তারা জায়ারে স্ট্রেনের সফল টিকাকে মডিফাই করে বান্ডিবুগিও’র জন্য তৈরি করছে। এটি একটি নিরীহ ভাইরাসের মাধ্যমে ইবোলার প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করায়। বানরের ওপর পরীক্ষায় এটি ১০০ শতাংশ কার্যকর হলেও মানুষের ট্রায়ালে যেতে প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে।
- অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়: তারা শিম্পাঞ্জির অ্যাডেনোভাইরাস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, যা মানুষের কোষে জেনেটিক নির্দেশনা পাঠায়। তবে মানুষের ওপর এটি পরীক্ষা করতে আরো ২-৩ মাস লাগবে।
- মডার্না: কোভিডের মতো দ্রুতগতির এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা এ টিকা তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন প্রতিটি দিনই অত্যন্ত মূল্যবান। ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, একটি কার্যকর ভ্যাকসিন বর্তমান প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলার সক্ষমতাও বাড়াবে