জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ব্রিটেনের অনেক পুরোনো
জাতের আপেল হারিয়ে যেতে বসেছে। ১৫০০ সাল থেকে বিভিন্ন এলাকার বাগানে প্রাধান্য বিস্তার
করা পিপিন বা প্রাচীন ননপারিলের মতো জাত টিকে থাকতে সংগ্রাম করছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
পরিবেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ২০২২
ছিল অন্যতম উষ্ণ একটি বছর। চলতি বছর ওই রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে
অন্য অনেক কিছুর মতো আপেল গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রিটেনের শীতল এলাকার
বিশেষ জাতগুলো। এ জাতের আপেলের পরিপূর্ণতার জন্য শীতকালে পর্যাপ্ত ঠাণ্ডার প্রয়োজন
পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনে
বেশকিছু পুরনো জাতের আপেল গাছ লাগানো হয়েছিল। জাতগুলোর কোনটি কোন আবহাওয়ায় কীভাবে বিকশিত
হয়, তা দেখাই এর উদ্দেশ্য। সেখান থেকেই ঝুঁকির তথ্য মিলেছে।
শীতের আগে আপেল গাছ শক্তি সঞ্চয় করে রাখে।
গাছগুলো সেই শক্তি ব্যবহার করে বসন্তে আবার নতুন আবহাওয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে।
আপেলের যথাযথ বিকাশের জন্য শীতকালে হিমাঙ্কের
ওপরে মোটামুটি ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ে এক হাজার ঘণ্টার ঠাণ্ডা পরিবেশ প্রয়োজন
হয়। তবে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রির বেশি হলে শরতে সঞ্চয় করা শক্তির ব্যবহারে অসামঞ্জস্য তৈরি
হয়। ফলে গাছে আপেল কম ধরে।
অবশ্য দূরের দ্বীপ দেশ নিউজিল্যান্ডসহ আশপাশের
এলাকায় এখন বিভিন্ন ধরনের আপেল হয়, যারা পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে টিকে থাকতে
পারে।
গালা আপেল ব্রিটেনের পুরোনো জাতের তুলনায়
অনেক কম শীতল পরিবেশে টিকে থাকতে ও ভালো ফলন দিতে পারে। ৬০০ ঘণ্টা শীতল আবহাওয়া পেলেও
ব্রিটিশ আপেলের চেয়ে ভালো ফলন দিতে পারে। এছাড়া জাপানের ফুজি আপেলগুলো ৪০০ ঘণ্টা শীতল
পরিবেশে ভালো ফলন দিতে পারে। ফলে উষ্ণায়নের বিশ্বে বেশিরভাগ খামারি এ জাতের আপেল চাষে
বেশি আগ্রহী।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েকশ বছর আগে ব্রিটিশ
আপেল যেমন পরিবেশ পেত, সেই শীতকাল এখন আর নেই। জাতগুলো এখনকার আবহাওয়ার উপযোগী নয়।
এমনকি ফলন কম হওয়ায় অনেক চাষীই বাগান ছেড়ে দিচ্ছেন। এর কোনো বিকল্প আছে কিনা নতুন প্রযুক্তি
ব্যবহার করে তা পরীক্ষা করে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।