অনশন ভাঙলেন ভারতের শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে, তাতে অংশ নিয়েই গত ২৬ দিন ধরে ওয়াংচুক অনশন করছিলেন। খবর বিবিসি।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে গতকাল দিবাগত রাতে হাসপাতালের শয্যায় শুয়েই তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে থাকা ওয়াংচুকের পাশে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হাজির ছিলেন। ছিলেন তার স্ত্রী এবং লেহ-লাদাখের ‘এপেক্স বডি’র সিনিয়র নেতারাও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোনাম ওয়াংচুক লেখেন, ‘এর আগে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য আমাকে অনশন ভঙ্গ করতে অনুরোধ করেছিলেন।’
ওয়াংচুক এ-ও লিখেছেন, বেশ কয়েকটি শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলাপ আলোচনা এবং দেশ জুড়ে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি খুব শিগগিরই একটি আলাদা ভিডিওতে শর্তগুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে বলবে। এখন আমি আপনাদের সবাইকে একটাই অনুরোধ করব যে আপনারা কোনো রকমের সহিংসতা হতে দেবেন না, আর এই ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকুন।’
ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, ‘আমরা খুশি যে সোনম স্যার ২৬ দিন পরে তার অনশন শেষ করেছেন। আপনার অসাধারণ সাহস এবং ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ স্যার। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোটা দেশের চেতনাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার জীবন এই দেশের কাছে খুবই মূল্যবান।'
দীপকে আরো জানিয়েছেন, সোনাম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা দিল্লির যন্তর মন্তরে যে বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন, তা চলবে।
সোনাম ওয়াংচুক ২৮ জুন অনশন শুরু করেছিলেন দিল্লির যন্তর মন্তরে। সেখানে আগে থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছিলেন সদ্য গড়ে ওঠা দল ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ অন্য সদস্যরা।
১৮ জুলাই সকালে তাকে দিল্লি পুলিশের একটি দল ধর্ণা মঞ্চ থেকে তুলে ভর্তি করে দেয় দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে। এ ঘটনার পর থেকে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে।