গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে এবং এ কাজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি উসকানি দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিশন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত কমিশনের ৭২ পাতার আইনি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গণহত্যার অভিযানে নেমেছে। খবর রয়টার্স।
কমিশনের প্রধান ও প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক নাভি পিল্লাই বলেন, ‘গাজায় গণহত্যা ঘটছে। এ ধরনের অপরাধের দায়ভার ইসরায়েলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের।’ তিনি রুয়ান্ডা গণহত্যার সঙ্গে পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ‘অমানুষ’ হিসেবে দেখিয়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আপনি আপনার শিকারকে অমানবিক করে তুলেছেন। তাদেরকে পশু হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং তাই কোনো বিবেকবোধ ছাড়াই আপনি তাদের হত্যা করতে পারেন।’ এই রিপোর্ট বিভিন্ন রাষ্ট্রের মনকে উন্মুক্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ কমিশন জানিয়েছে, গণহত্যার সংজ্ঞায় উল্লিখিত পাঁচটি কাজের মধ্যে অন্তত চারটি ইসরায়েল করেছে—হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি, জীবনযাত্রার এমন অবস্থা চাপিয়ে দেয়া যাতে জনগোষ্ঠী ধ্বংস হয়, এবং জন্ম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ভুক্তভোগী ও চিকিৎসকদের সাক্ষাৎকার, স্যাটেলাইট চিত্র ও যাচাইকৃত তথ্য।
প্রতিবেদনে নেতানিয়াহু ছাড়াও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বক্তব্যকে গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল মেরন প্রতিবেদনটিকে ‘কলঙ্কজনক’ ও ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘হামাসের পক্ষপাতীরা’ এ প্রতিবেদন রচনা করেছে। ইসরায়েল শুরু থেকেই এই কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
ইসরায়েল বর্তমানে হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে লড়ছে। দেশটি দাবি করছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন অপহৃত হওয়ার ঘটনার পর আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে তারা। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, পরবর্তীতে গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞে ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং বহু এলাকায় এখন দুর্ভিক্ষ চলছে।
জাতিসংঘ এখনো গাজার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করেনি। তবে এ কমিশনের শক্তিশালী প্রতিবেদনের পর শব্দটি ব্যবহারের আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।