শিনজো আবে হত্যা মামলা: আসামি ইয়ামাগামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ইয়ামাগামির এই চরমপন্থার পেছনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক বিতর্কিত 'ইউনিফিকেশন চার্চ'-এর প্রতি তীব্র ঘৃণা।

প্রসিকিউটররা ইয়ামাগামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। বিচারক শিনিচি তানাকা সেই আবেদন মঞ্জুর করে জানান, এই হত্যাকাণ্ড জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অপরাধ। অন্যদিকে, বিবাদী পক্ষ ইয়ামাগামির পারিবারিক দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে ২০ বছরের কারাদণ্ডের আর্জি জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে হত্যার দায়ে প্রধান অভিযুক্ত তেতসুয়া ইয়ামাগামিকে (৪৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২১ জানুয়ারি) জাপানের নারা ডিসট্রিক্ট আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজ হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে আবেকে গুলি করার কথা আগেই স্বীকার করেছিলেন ইয়ামাগামি। খবর এপি।

গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারে প্রসিকিউটররা ইয়ামাগামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। বিচারক শিনিচি তানাকা সেই আবেদন মঞ্জুর করে জানান, এই হত্যাকাণ্ড জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। অন্যদিকে, বিবাদী পক্ষ ইয়ামাগামির পারিবারিক দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে ২০ বছরের কারাদণ্ডের আর্জি জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

তদন্তে বেরিয়ে আসে, ইয়ামাগামির এই চরমপন্থার পেছনে ছিল দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক বিতর্কিত 'ইউনিফিকেশন চার্চ'-এর প্রতি তীব্র ঘৃণা। ইয়ামাগামির দাবি, তার মা এই চার্চকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে পরিবারকে দেউলিয়া করে দিয়েছিলেন। শিনজো আবে এই চার্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যা দেখে ইয়ামাগামি ক্ষুব্ধ হন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আবে এই চার্চকে জাপানে প্রভাবশালী হতে সহায়তা করছেন।

শিনজো আবের এই হত্যাকাণ্ড কেবল জাপানকেই স্তব্ধ করেনি, বরং দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে ওই বিতর্কিত চার্চের কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও জনসমক্ষে নিয়ে আসে। এর ফলে তীব্র জনরোষের মুখে সরকার ওই চার্চের করমুক্ত ধর্মীয় মর্যাদা বাতিল করে এবং সেটি বিলুপ্ত করার নির্দেশ দেয়।

আদালতের রায়ের সময় শত শত মানুষ নারা ডিসট্রিক্ট আদালতের বাইরে ভিড় করেন। ইয়ামাগামি একজন স্বীকৃত খুনি হলেও জাপানের অনেক মানুষ তার পারিবারিক ট্র্যাজেডির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তার দণ্ড কমানোর দাবিতে হাজার হাজার মানুষ পিটিশনে স্বাক্ষরও করেছিলেন।

জাপানের মতো কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের দেশে এই হত্যাকাণ্ড নিরাপত্তার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে। আবের মৃত্যুর পর থেকেই জাপানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পুলিশি সুরক্ষা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

আরও