ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু

২২ আপডেট
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    স্থিতিশীলতার আশায় ওয়াশিংটন বৈঠকে অংশ নিচ্ছে লেবানন

    ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আসন্ন বৈঠক থেকে যুদ্ধবিরতির পথ বের হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন।

    সোমবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, লেবানন এমন একটি চুক্তি চায় যার মাধ্যমে সরাসরি আলোচনা শুরু হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যাবে। টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে তা একতরফা হতে পারে না।

    ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ কোনো সমাধান নয়। সশস্ত্র সংঘাতে কূটনৈতিক পথই সবচেয়ে কার্যকর।

    ইতালির পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট। তবে এ আলোচনা লেবানন রাষ্ট্রই পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    নৌপথকে চাপের হাতিয়ার না করার আহ্বান কাতারের

    নৌপথকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি।

    এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    আলোচনায় তিনি আন্তর্জাতিক নৌপথ সবসময় উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি বলেন, কোনোভাবেই চাপ সৃষ্টি বা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে নৌপথকে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    সূত্র: রয়টার্স

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’: চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই।

    সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি নষ্ট করে বা সংঘাত বাড়ায় এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘স্পষ্টভাবে অবস্থান’ নিতে হবে।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানোর পাশাপাশি ‘কঠিন প্রচেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতির গতি’ ধরে রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    তিনি জানান, সংকট সমাধানে পাকিস্তান বড় ভূমিকা রাখলে চীন তা স্বাগত জানাবে। একই সঙ্গে বেইজিংও এ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    ছয় সপ্তাহের সংঘাতে নিহত ৫ হাজারের বেশি

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গত ছয় সপ্তাহে ইরান ও লেবাননে মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে ২ হাজার ৮৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৬৬ জন শিশু।

    এদিকে, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখার দাবি করছে ইসরায়েল।

    ছয় সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এ সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাক, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, অধিকৃত পশ্চিম তীর, ওমান, বাহরাইন ও সৌদি আরবেও শত শত মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    অবরোধের কাছে এলে ইরানি জাহাজ ধ্বংস করে দেয়া হবে: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কড়া হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কাছাকাছি কোনো ইরানি জাহাজ এলে সেটিকে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এখনো ইরানের কিছু দ্রুতগামী আক্রমণাত্মক নৌযান অবশিষ্ট রয়েছে, যেগুলো যদি অবরোধের কাছে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।

    পোস্টে ট্রাম্প আরো লেখেন, এসব জাহাজের কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সেগুলোকে সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রে মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে আমরা যে কৌশল ব্যবহার করি, ঠিক একইভাবে তা প্রয়োগ করা হবে।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু

    ইরানের বন্দরে চলাচলকারী সব ধরনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার বাংলাদেশ সময় ৮টায় এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সব বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থান করা জাহাজ (জাতীয়তা নির্বিশেষে) এ অবরোধের আওতায় পড়বে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরের উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী জাহাজের স্বাধীন চলাচলে কোনো বাধা দেয়া হবে না।

    সেন্টকম আরো জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরোধের আওতায় থাকা এলাকায় প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তা পথিমধ্যে আটক, পথ পরিবর্তন কিংবা জব্দ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী, সেটি এখানে বিবেচনা করা হবে না।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    অবরোধ করা এলাকায় জাহাজ ঢুকলে আটক করা হতে পারে: সেন্টকম

    ইরানের বন্দরে চলচলকালী সব ধরনের নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

    এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরোধের আওতায় থাকা এলাকায় প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তা পথিমধ্যে আটক, পথ পরিবর্তন কিংবা জব্দ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী, সেটি এখানে বিবেচনা করা হবে না।’

    এতে আরো বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান বাদে অন্য কোনো দেশে যাতায়াতকারী নিরপেক্ষ জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো বাধা দেবে না মার্কিন বাহিনী।

    এই নৌ অবরোধ কার্যকর ও দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত সামরিক শক্তি ও সরঞ্জাম রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অবরোধ ভাঙলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে সে বিষয়ে কোনো ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ নির্ধারণ করা হয়নি।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় অবাক হইনি: জার্মান চ্যান্সেলর

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ।

    বার্লিনে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আমি অবাক হইনি। শুরু থেকেই আমার মনে হয়েছে, এ আলোচনায় যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না। শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনো অনেক দূরের বিষয়।’

    চলমান সংকট দ্রুত সমাধান হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, এর অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনুভূত হবে।

    মের্জ বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব বহুদিন ধরে আমাদের ওপর থাকবে।

    চ্যান্সেলর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হতে একমাত্র পথ হলো কূটনৈতিক সমাধান এবং জার্মানির মূল স্বার্থও সেই দিকেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি ঘিরে অবরোধের হুমকিকে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে জার্মানি।

    সূত্র: সিএনএন

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন নিরাপদ করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: জাতিসংঘ

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন নিরাপদ করতে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। চলমান উত্তেজনার কারণে সরবরাহ সংকট তীব্র হওয়ায় বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    জাতিসংঘের ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েট টৌমা জানান, নিউইয়র্কে গত দুই সপ্তাহ ধরে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একটি কার্যকর প্রক্রিয়া কীভাবে গঠন ও পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার ও সংশ্লিষ্ট উপাদানবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং এশিয়া ও আফ্রিকার সারনির্ভর দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য মানবিক সংকট কমানিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকার চলাচল ৯০ শতাংশেরও বেশি কমে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া

    ইরানের রাশিয়া-নির্মিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় সব কর্মী প্রত্যাহার করছে মস্কো। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম এ তথ্য জানিয়েছে।

    রোসাটমের প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, কেন্দ্রটি থেকে ১০৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। কেবল ২০ জন কর্মী সেখানে থাকবেন, যারা সরঞ্জাম পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সেখানে আরও দুটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করছে রাশিয়া।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই কর্মী প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    এক বিবৃতিতে রোসাটম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বুশেহর কেন্দ্রের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঝুঁকি নিয়ে রাশিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রের পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের কাছাকাছিও পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    কর্মী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা যুদ্ধবিরতির আগেই শুরু হয়েছিল। কয়েক দফায় প্রায় ৬০০ জন কর্মী সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    লেবাননে হামলায় ২৫০-এর বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য নিহতের দাবি ইসরায়েলের

    লেবাননে গত সপ্তাহে চালানো বড় ধরনের বিমান হামলায় ২৫০-এর বেশি হিজবুল্লাহ সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

    সেনাবাহিনীর বরাতে বলা হয়, ৮ এপ্রিলের ব্যাপক বিমান হামলার পর সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের ধারাবাহিক নজরদারির ভিত্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে।

    অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সেখানে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে আলাদা কোনো শ্রেণিবিভাগ উল্লেখ করা হয়নি।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে হিজবুল্লাহর একাধিক শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন হিজবুল্লাহর লজিস্টিকস সদর দপ্তরের প্রধান হাসান মোস্তফা নাসের, গোয়েন্দা ইউনিটের শীর্ষ কমান্ডার আলী কাসেম, আবু আলী আব্বাস, আলী হিজাজি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের ডেপুটি প্রধান আবু মোহাম্মদ হাবিব।

    তবে এ হামলার প্রকৃত প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মূল্যায়ন এখনো চলছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    যেকোনো মুহূর্তে শেষ হতে পারে যুদ্ধবিরতি: নেতানিয়াহু

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি যেকোনও মুহূর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘যেকোনও সময় বদলে যেতে পারে’।

    নেতানিয়াহু জানান, পাকিস্তান থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শেষে ফেরার পথে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, আলোচনা শুরুর শর্তাবলী ইরান চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে, যা মার্কিনিরা সহ্য করতে পারছে না। চুক্তি ছিল যে তারা হামলা বন্ধ করবে এবং ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। কিন্তু তারা তা করেনি।

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মতে, জেডি ভ্যান্স তাকে জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ইরান থেকে সব ধরনের সমৃদ্ধ করা পরমাণু সামগ্রী সরিয়ে ফেলা। ওয়াশিংটন নিশ্চিত করতে চায়, আগামী কয়েক বছর, এমনকি কয়েক দশকেও যেন ইরানের ভেতরে কোনও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না ঘটে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং অবশ্যই এটি আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

    ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে উভয় পক্ষ ‘নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের’ মধ্যে রয়েছে।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে ইরান

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে নয়া দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে ইরান। আজ সোমবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালি জানান, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ভালো যোগাযোগ রয়েছে এবং ভারতকে সহায়তা করতে আগ্রহী তেহরান।

    যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রধান রুট হওয়ায় পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে। এতে তেলের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং বাজারে চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। রয়টার্স

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    যেভাবে হরমুজ ঘিরে নৌ অবরোধ বসাবে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আজ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নৌ অবরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। নাবিকদের জন্য জারি করা এক অগ্রিম সতর্কবার্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে আরব সাগরের নির্দিষ্ট অংশে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে। এতে পতাকা নির্বিশেষে সব ধরনের জাহাজ চলাচল অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।

    সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ যদি অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে আটক, পথ পরিবর্তনে বাধ্য বা জব্দ করা হতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানবহির্ভূত গন্তব্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা নিরপেক্ষ জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলে এ অবরোধ বাধা সৃষ্টি করবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে জানানো হয়, নিরপেক্ষ জাহাজগুলোকেও তল্লাশির আওতায় আনা হতে পারে, যাতে নিষিদ্ধ পণ্য বহনের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। তবে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্যবাহী মানবিক সহায়তা জাহাজগুলো পরিদর্শনের শর্তে চলাচলের অনুমতি পাবে বলে জানানো হয়েছে।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    আজ থেকেই হরমুজ অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের, নতি স্বীকার করবে না ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পোস্টে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করা হবে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ই এপ্রিল স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (যা বাংলাদেশ সময় রাত আটটা) থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো আটকানো শুরু করবে।

    এর আগে, ওই অঞ্চলে দায়িত্বরত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সোমবার ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ শুরু হবে।

    মার্কিন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বলেছে যে, তারামার্কিন হুমকির মুখে নতি স্বীকার করবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার সময় উভয় পক্ষই একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি ছিল, কিন্তু আলোচনায় তেহরান সর্বোচ্চ চাপ, ক্রমাগত শর্ত পরিবর্তন এবং অবরোধের সম্মুখীন হয়েছে।

    শান্তি-আলোচনার নেতৃত্বদানকারী ইরানের স্পীকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন অবরোধের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) - এ এক পোস্টে লিখেছেন, বর্তমান জ্বালানি তেলের দাম উপভোগ করে নিন। আপনাদের এই তথাকথিত অবরোধের কারণে শিগগিরই আপনারা চার বা পাঁচ ডলারের পেট্রোলের অভাব বোধ করবেন।

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের হুমকি অবৈধ, দস্যুতার শামিল: ইরানি সশস্ত্র বাহিনী

    ইরানের বন্দর অবরোধের যে প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। ওয়াশিংটনের একই সঙ্গে হুমকিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে একে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে তেহরান। শত্রুপক্ষ-সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

    এ ছাড়া উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর উদ্দেশে সতর্কবার্তায় ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, এ অঞ্চলের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ‘সবার জন্য, নতুবা কারও জন্যই নয়’। যদি ইরানের বন্দরগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি ও আল–জাজিরা

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

    অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কোর্টে আবেদন করেছে তিনটি মানবাধিকার সংস্থা। এর লক্ষ্য হলো, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানির অনুমতি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে বাধ্য করা।

    আল-হক, আল মিজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ও প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস যৌথভাবে এ আবেদন করেছে। এতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে দেয়া কিন্তু এখনো কার্যকর থাকা রফতানি অনুমতিপত্র, পাশাপাশি এমন অস্ত্র রফতানির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি ইসরায়েলে সরবরাহ করা হয়নি।

    সংস্থাগুলো একাধিক বিষয় জানতে চায়। রফতানীকৃত অস্ত্র বা প্রযুক্তি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে ব্যবহার অথবা অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে—এসব বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি-না।

    তাদের বক্তব্য, ‘যদি নথিতে দেখা যায় যে মন্ত্রী এই ঝুঁকিগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাহলে এটি একটি আইনি দাবি উত্থাপনের পথ খুলে দিতে পারে। যেখানে বলা হবে মন্ত্রী আইনগতভাবে ভুল করেছেন এবং এসব রফতানি বন্ধ করা উচিত।’

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    ইরান অবরোধে ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছে না ব্রিটেন: স্টারমার

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় যুক্ত হবে না যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ‘আমরা অবরোধকে সমর্থন করছি না’ এবং ‘এই যুদ্ধে জড়াতে চাই না।’

    কিয়ার স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্যের মূল লক্ষ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

    স্টারমার মন্তব্য করলেন এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন জলপথটিতে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠাবে যুক্তরাজ্য।

    তবে ব্রিটেন জানিয়েছে, সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পরই শুধু জলপথে মাইন অপসারণে সহায়তা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা এখন পুরোপুরি এ প্রণালীকে ‘সম্পূর্ণভাবে চালু’ করার দিকেই কেন্দ্রীভূত।

    সংঘাতের পর গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি তেল পরিবহন রুটে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য আরো কয়েক ডজন দেশের সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

    সূত্র: এপি

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    দক্ষিণ লেবাননে ফসফরাস শেল ব্যবহার ইসরায়েলের

    দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলার বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, বাজুরিয়েহ, নাবাতিয়েহ এল ফাওকা, সির এল ঘারবিয়েহ এবং চুকিন শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

    এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হামলার মুখে থাকা বিনত জবেইল শহরেও নতুন করে আক্রমণ চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে টায়ারের মাজদাল জুন ও বায়ত আল-সাইয়্যাদ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, আল-হানিয়াহ, আল-কালিলাহ, আল-মানসুরি ও বায়ত আল-সাইয়্যাদ এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ হয়েছে। টায়ারের জিবকিন এলাকায় আর্টিলারি ও ফসফরাস শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

    এদিকে একই জেলার সিদ্দিকিন শহরেও যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।

    এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে শ্লোমি বসতিতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

    গোষ্ঠীটি বলেছে, আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

    এর আগে রোববার দক্ষিণ লেবাননের তেফাহতাহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় ৯ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৫ নিহত ও ৬ হাজার ৫৮৮ জন আহত হয়েছেন।

    সূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে ৭৭টি ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে ইরানের রাজধানীর অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য দিয়েছেন তেহরানের ঐতিহাসিক নিদর্শন সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটি ফর দ্য ফলো-আপ অব দ্য প্রটেকশন অব হিস্ট্রিকাল মনুমেন্টসের সচিব সাজ্জাদ আসগারি।

    তিনি জানান, হামলায় তেহরানের ৭৭টি ঐতিহাসিক ভবন, প্রাসাদ ও জাদুঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ স্থাপনার ক্ষতির পরিমাণ ‘সামান্য’, আর ১০ শতাংশ ‘গুরুতর’ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে ৩৮টি জাতীয়ভাবে নিবন্ধিত ঐতিহাসিক নিদর্শন। বাকি অংশগুলো স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ভবন।

    ক্ষতিগ্রস্ত নিদর্শনের মধ্যে ২৭টি কাজার যুগের সময়কার।

    ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ফাররোখাবাদ প্রাসাদ, ইশরাতাবাদ প্রাসাদ, কাহাক মিল, কাসর কারাগার, মার্বেল প্যালেসের পাথরের গেট, আহমদ রেজা পাহলভি প্রাসাদ ও রাফি নিয়া সিনাগগ হাউজ।

    সূত্র: আল জাজিরা

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    জ্বালানি তেলের দাম দেখে আনন্দ করুন, যুক্তরাষ্ট্রকে উপহাস ইরানি স্পিকারের

    পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে দেয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি অবরোধের সিদ্ধান্তকে উপহাস করে লিখেছেন, ‘বর্তমান জ্বালানি তেলের দাম দেখে আনন্দ করুন।’

    ‘এই তথাকথিত “অবরোধের” কারণে শিগগিরই আপনারা চার বা পাঁচ ডলারে গ্যাস পাওয়ার দিনগুলোর কথা ভেবে নস্টালজিক হয়ে পড়বেন।’

    এর আগে, ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গালিবফ বলেছেন, ইরান ‘কোনো হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার সময় উভয় পক্ষই চুক্তির ‘একদম কাছাকাছি’ ছিল, কিন্তু তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ, বারবার লক্ষ্য পরিবর্তন এবং অবরোধের’ সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

    দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের জলপথের দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সূত্র: বিবিসি

  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

    পোপের উচিত চরম বামপন্থীদের তোষণ বন্ধ করা: ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধ ঘিরে পোপ চতুর্দশ লিওর প্রতি বাক্যবাণ ছুড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, প্রথম মার্কিন পোপের উচিত ‘চরম বামপন্থীদের তোষণ বন্ধ করা’।

    ক্যাথলিক চার্চের বৈশ্বিক নেতার বিরুদ্ধে একে ‘অস্বাভাবিক তীব্র সমালোচনা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    গতকাল ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পর এয়ার ফোর্স ওয়ানের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তার ভাষ্যে, ‘যে পোপ বলে পারমাণবিক অস্ত্র রাখা ঠিক। আমরা এমন পোপকে পছন্দ করি না।’

    ‘আমি পোপ লিওর ভক্ত নই’ উল্লেখ করে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি ভালোভাবে কাজ করছেন।’

    এর আগে ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার ভ্রান্ত ধারণা’র তীব্র সমালোচনা করেন পোপ লিও, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে উসকে দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

    পোপ তার প্রার্থনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার বক্তব্যের সুর ও বার্তা স্পষ্টতই ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তারা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরে এবং ধর্মীয় ভাষায় যুদ্ধকে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

    সূত্র: এপি

মার্কিন অবরোধের আগেই জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ফের ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজ আটকে দেয়ার প্রস্তুতির প্রভাব পড়েছে বাজারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তি না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, যা ইরানের জ্বালানি তেল রফতানি সীমিত করতে পারে।

আজ সকালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ৬ ডলার ৭১ সেন্ট বা ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাঁড়ায় ১০১ ডলার ৯১ সেন্টে।

অন্যদিকে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৭ ডলার ৫৯ সেন্ট বা ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪ ডলার ১৬ সেন্টে পৌঁছেছে।

এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা প্রধান সল কাভোনিক বলেন, বাজার এখন মূলত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরান-সম্পর্কিত জ্বালানি তেল প্রবাহও আটকে দিতে পারে।

ছবি: রয়টার্স

গতকাল এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরু করবে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

তিনি আরো বলেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জ্বালানি তেল ও পেট্রলের দাম উচ্চস্তরে থাকতে পারে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় আজ সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোয় প্রবেশ ও ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের জাহাজে এ অবরোধ কার্যকর করা হবে।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব ইরানি বন্দরসহ সব জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।

তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশের বন্দরে যাওয়া-আসা করা জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

ছবি: রয়টার্স

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কপর্স (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে এবং কঠোর জবাব দেবে।

এ অচলাবস্থার মধ্যেও শনিবার তিনটি সুপারট্যাঙ্কার তেল বোঝাই অবস্থায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে শিপিং ডাটা থেকে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির পর এগুলোই ছিল উপসাগর ছেড়ে যাওয়া প্রথম জাহাজ।

তবে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের আগে অনেক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজই এখন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও