ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় বিশ্ব বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা এক কঠিন সংকটে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি এখন অনেকটাই ফাঁকা। জাহাজগুলো নিরাপদ দূরত্বে অপেক্ষা করছে বা অন্য রুট অনুসরণ করছে। খবর সিএনবিসি।
বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং সংগঠন বিমকো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হঠাৎ কমে গেছে। সংগঠনের নিরাপত্তা প্রধান ইয়াকব লারসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের আগে কিছুটা সতর্কতা ছিল ঠিকই, কিন্তু হামলার পর এখন অনেক কোম্পানি প্রণালি এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, যদি ইরান জাহাজে সরাসরি হামলা শুরু করে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম বড় শিপিং কোম্পানি জাপানের নিপ্পন ইউসেন ও মিতসুই ও.এস.কে. লাইন, প্রণালিতে প্রবেশের আগে তাদের জাহাজগুলোকে অপেক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও তারা এখনই সম্পূর্ণভাবে রুট বন্ধ করেনি, তবে কোনো সম্ভাব্য আক্রমণের ঝুঁকি থাকলে একাধিক দিন দেরি করে যাত্রা শুরু করতে বলেছে।
শুধু জাপানি কোম্পানিই নয়, জার্মান শিপিং জায়ান্ট হাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, তারা এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে ঠিকই, তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পাল্টাতে পারে। তাদের জরুরি সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান তার সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রস্তাব বিবেচনায় রেখেছে বলে জানা গেছে। ইরানি পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও ২০ শতাংশ এলএনজি পরিবাহিত হয়।
বাণিজ্য বিশ্লেষক অ্যান্ডি ক্রিচলো জানাচ্ছেন, কিছু এলএনজি সরবরাহকারী ইতোমধ্যেই তাদের ক্রেতাদের বলেছে যেন তারা উপসাগরে অপ্রয়োজনে অবস্থান না নেয়। সব মিলিয়ে শিপিং সময়সূচি ও রুট পুনর্নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
এর ফলে বিমা খরচও বেড়ে গেছে। প্রতিটি শিপিং কোম্পানি এখন দিনে একাধিকবার নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করছে এবং বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমা খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ বিলম্বের কারণে বৈশ্বিক পণ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে বেইজিং-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধের সম্ভাবনা ঠেকাতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কারণ এই রুটের স্থবিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।