ভুল মডেলিংয়ের মাশুল

ধারণার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা

সবচেয়ে আতঙ্কের তথ্য এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে। এসব অঞ্চলে সমুদ্রের উচ্চতা আগের ধারণার চেয়ে ১০০-১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেশি হতে পারে

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে—এ সতর্কবার্তা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে, আমাদের আগের সব হিসাব ছিল ভুল। প্রকৃত অর্থে সমুদ্রের পানি ধারণার চেয়েও অনেক বেশি উচ্চতায় অবস্থান করছে, যা উপকূলীয় কোটি কোটি মানুষের জন্য এক অশনিসংকেত। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

নেদারল্যান্ডসের ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ফিলিপ মিন্ডারহাউড ও ক্যাথরিনা সিগারের গবেষণাটি সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৯-২৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত ৩৮৫টি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে তারা বড় ধরনের ভুলের প্রমাণ পেয়েছেন, যাকে বলা হয়েছে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি ব্লাইন্ড স্পট’।

এতে দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাপার ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশের বেশি গবেষণায় সরাসরি স্থানীয় পরিমাপ ব্যবহার করা হয়নি। এর বদলে ব্যবহার করা হয়েছে ‘গ্লোবাল জিওয়েড মডেল’। এ মডেলগুলো মূলত পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ও আবর্তনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সমুদ্রের পানির প্রকৃত উচ্চতা নিখুঁতভাবে জানাতে পারে না।

গবেষকদের মতে, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্রোত, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার মতো স্থানীয় প্রভাবগুলো হিসাবে না আনায় সমুদ্রের উচ্চতা গড়ে ২৪-২৭ সেন্টিমিটার কম দেখানো হয়েছে। বৈশ্বিক গড় হিসাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ এখনকার চেয়ে ৩০ সেন্টিমিটার বেশি উঁচু হতে পারে। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের তথ্য এসেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে। এসব অঞ্চলে সমুদ্রের উচ্চতা আগের ধারণার চেয়ে ১০০-১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

সমুদ্রের এ নতুন উচ্চতা জলবায়ু রক্ষার পরিকল্পনায় বড় ধরনের ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারে। নতুন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের উচ্চতা ১ মিটার বাড়লে আগের ধারণার তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ সরাসরি ঘরবাড়ি হারানোর বা বাস্তুচ্যুত হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

গবেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলো তাদের প্রতিবেদনে যেসব তথ্য ব্যবহার করছে, সেগুলোর পুনর্মূল্যায়ন এখন সময়ের দাবি। ভুল মডেলিংয়ের মাশুল যেন উপকূলের প্রান্তিক মানুষকে তাদের ভিটেমাটি দিয়ে দিতে না হয়, সেজন্য এখনই সঠিক ও স্থানীয় তথ্যনির্ভর সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

আরও