চিলিতে দাবানলে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ১০০ বাড়িঘর পুড়ে গেছে, নিখোঁজ রয়েছে আরো দুই শতাধিক মানুষ। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুনের শিখা শহুরে অঞ্চলকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। দাবানল ঠেকাতে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে। খবর রয়টার্স।
সেন্ট্রাল চিলিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। কালো ধোঁয়া ভালপারাইসো অঞ্চলের অনেকখানি জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। অগ্নিনির্বাপণকারীরা হেলিকপ্টার ও ট্রাক দিয়ে আগুন নেভাতে কঠোর পরিশ্রম করছেন।
চিলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, উপকূলবর্তী পর্যটন শহর ভিনা দেল মারে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলোর আক্রান্ত অঞ্চলগুলোয় যেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।
নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিনা তোহা বলেন, ‘এ সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। ভালপারাইসোর পরিস্থিতি খু্বই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।’
ভালপারাইসোর ন্যাশনাল ফরেস্ট্রি করপোরেশনের পরিচালক লিওনার্দো মোডার জানান, ‘ওই অঞ্চলে প্রায় ৪০ বা ৫০ কিলোমিটার (প্রতি ঘণ্টা) বেগে বাতাস বইছে, যা গাছের পাতা, শাখা বা কাঠের টুকরো বহন করছে। এসব কাঠের টুকরো ও পাতা থেকে আগুন আরো বেড়ে যাচ্ছে।’
২০১০ সালে ভূমিকম্পে ৫০০ জন মারা যাওয়ার পর দেশটি সবচেয়ে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে। দাবানলের জেরে দেশটির মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এর প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক। এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি জাতির উদ্দেশে জানান, পরিস্থিতি প্রকৃত অর্থে খুবই কঠিন।
গ্রীষ্মের সময়ে দাবানল চিলিতে নতুন কিছু নয়, গত বছর রেকর্ড মাত্রার হিট ওয়েভে ২৭ জন মারা যায় এবং চার লাখ হেক্টরের (৯ লাখ ৯০ হাজার একর) বেশি এলাকা আক্রান্ত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তোহা আরো বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর আক্রান্ত এলাকার সংখ্যা কম। কিন্তু এর সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়ছে।’
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দাবানলে আনুমানিক ১ হাজার ১০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সরবরাহের জন্য উপদ্রুত এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ কারফিউ স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৯টা থেকে বলবৎ হয়েছে। এছাড়া নতুন করে কিছু এলাকার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে।
চিলির পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশ কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরুগুয়ে ও ব্রাজিলেও তাপমাত্রা বাড়ছে। সেখানে দাবানল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।