গত জুলাইয়ে ১০০ বছর পূর্ণ করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি এখনো নিয়মিত কাজ করছেন। আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে কথা বলেছেন। মাহাথির জানান, এ হামলায় প্রায় ৬৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি। তার মতে, গাজায় যা ঘটছে তা শতাব্দীর পর শতাব্দী মনে রাখবে বিশ্ব।
মাহাথির বলেন, ‘গাজায় গর্ভবতী নারী থেকে শুরু করে সদ্যজাত শিশু, তরুণ-তরুণী, অসুস্থ ও দরিদ্র মানুষ কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। এভাবে মানুষকে হত্যা করা যায় কীভাবে? এসব ঘটনা কোনো দিন ভোলা যাবে না।’
তিনি গাজার হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করে তুলনা টানেন বসনিয়ার মুসলিম গণহত্যা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির হাতে ইহুদিদের হত্যার সঙ্গে। মাহাথির বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা নিজেরা গণহত্যার শিকার হয়েছিল, তারা কীভাবে অন্যদের ওপর একই ধরনের নির্যাতন চালাতে পারে?’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মাহাথির সবসময় ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিলেন। তার মতে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব সমাধানের একমাত্র যুক্তিযুক্ত পথ হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। তবে তিনি মনে করেন, তার জীবদ্দশায় তিনি তা বাস্তবায়িত হতে দেখতে পারবেন না। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবুও মাহাথির মনে করেন, এ পথ এখনো বেশ দীর্ঘ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতবর্ষেও মাহাথির এখনো বেশ সক্রিয়। তিনি প্রতিদিন কাজ করেন, ব্যায়াম করেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক হওয়া এ নেতা মোট ২৪ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশটি কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে আধুনিক শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি চীনের উত্থান নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, চীন আগামী ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করে বিশ্বের এক নম্বর শক্তি হয়ে উঠবে। চীনের বিশাল বাজার, কর্মনিষ্ঠা ও শিল্পোন্নয়ন এর মূল কারণ। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিযোগিতায় দুর্বল করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাহাথির নিজের দীর্ঘায়ুর রহস্য সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শরীর ও মন সবসময় সক্রিয় রাখতে হবে। আর খেতে হবে পরিমাণে কম। আমার মায়ের সেরা পরামর্শ ছিল—খাবার খেতে ভালো লাগলেও থেমে যেতে হবে।’