উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশই গত বছর শিক্ষাখাতের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এ তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে। সেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ২০২৭ সালের মধ্যে আরো ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ১১৩টি উন্নয়নশীল দেশ শিক্ষাখাতের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোয় শিক্ষার তুলনায় ঋণ পরিশোধে গড়ে ৩ দশমিক ৬ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো এরই মধ্যে ২০২৩ সালের তুলনায় শিক্ষা খাতে বৈদেশিক সহায়তার ২১ শতাংশ হারিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আফগানিস্তান, মালি, নাইজার ও লাইবেরিয়ার মতো কয়েকটি দেশে গত তিন বছরে শিক্ষা সহায়তা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।
ইউনেস্কোর শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মিন জিয়ং কিম বলেন, বর্তমান উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কঠোর ব্যয়সংকোচন, কম বিনিয়োগ এবং স্থবির উন্নয়নের চক্রে আটকে রাখছে ঋণ ব্যবস্থাপনা। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা কমছে এবং ভবিষ্যতে ঋণ মোকাবিলার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ১৮টি দেশ শিক্ষাখাতের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা শিক্ষার চেয়ে ১৬ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ঋণ পরিশোধে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন ডেট জাস্টিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ পরিশোধের পরিমাণ গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৫৬টি দেশ তাদের মোট সরকারি আয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করেছে।
সংগঠনটির নীতিবিষয়ক পরিচালক টিম জোনস বলেন, কভিড-১৯ মহামারী, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সুদহার বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে ঋণ পরিশোধের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক দেশে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অপরিহার্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সহায়তা কমে যাওয়ায় ২০২৪ সালে শিক্ষাখাতে বৈদেশিক অর্থায়ন ৬০ কোটি ডলার কমেছে, যা ২০২৫ সালে আরো কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউনেস্কোর মতে, দীর্ঘমেয়াদে এ পরিস্থিতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে।