সংঘাতের মাঝে সুদানের দারফুরে হামের প্রাদুর্ভাব: চরম ঝুঁকির মুখে লাখো শিশু

ভ্যাকসিনের সরবরাহ বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় ‘সমুদ্রে শিশির বিন্দুর মতো’।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত দারফুরে ১ হাজার ৩০০ এর বেশি নতুন হামের কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের তীব্র জ্বর, কাশি এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিচ্ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের দারফুর অঞ্চলে চরম সহিংসতার মধ্যেই দেখা দিয়েছে প্রাণঘাতী হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন শত শত আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভিড় করলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স। খবর আল জাজিরা।

দক্ষিণ দারফুরের নিয়ালা টিচিং হাসপাতালে এমএসএফ-এর জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ড. আলী আল-মোহাম্মদ জানান, তাদের আইসোলেশন ইউনিটে মাত্র ২৫টি শয্যা রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা খুবই সীমিত। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কিন্তু দারফুরের মানুষের বিশাল চাহিদার তুলনায় তা সামান্য।‘

সেপ্টেম্বর মাস থেকে এ পর্যন্ত দারফুরে ১ হাজার ৩০০ এর বেশি নতুন হামের কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের তীব্র জ্বর, কাশি এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিচ্ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে টিকাদান কর্মসূচি স্থবির হয়ে পড়েছে। এমএসএফ জানিয়েছে, গত বছর ১ লাখ ৭৯ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ৫০ লাখ শিশু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। উত্তর ও পূর্ব দারফুরের অধিকাংশ এলাকায় সংঘাতের কারণে টিকা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, হামের পাশাপাশি ডিপথেরিয়া এবং হুপিংকাশির মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগও ছড়িয়ে পড়ছে।

এমএসএফের মতে, ভ্যাকসিনের সরবরাহ বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় ‘সমুদ্রে শিশির বিন্দুর মতো’। সহিংসতা ছাড়াও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক বাধা ভ্যাকসিন পরিবহনে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুদানে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসের মুখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় ১ হাজার ৮৫৮ জন নিহত হয়েছেন।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, নিয়ালা থেকে সম্প্রতি ৯ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে মুক্তি দেয়া হলেও এখনো বহু চিকিৎসক ও বেসামরিক লোক আরএসএফের হাতে বন্দি। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩৪ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ৫০৭ জন আহত হয়েছেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, দারফুর বর্তমানে ‘বিশ্বের মানবিক যন্ত্রণার কেন্দ্রবিন্দুতে’ পরিণত হয়েছে। এল-ফাশের শহর থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অবরুদ্ধ এই জনপদে দেখা দিয়েছে ওষুধ, খাবার এবং জরুরি সরঞ্জামের তীব্র সংকট।

আরও