হরমুজ প্রণালি রক্ষায় যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের

ট্রাম্প বলেন, আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশ যারা এ কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা এ অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। যেন একটি দেশ যাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আর কোনো হুমকি হয়ে না দাঁড়াতে পারে।

২৮ আপডেট
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইসফাহানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১৫ জন নিহত: ইরানি গণমাধ্যম

    ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শিল্প শহর ইসফাহানে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় ১৫ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    হামলার প্রতিশোধেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ব্যাংকে হামলা : ইরান

    উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় ইরানের হামলা ছিল মূলত প্রতিশোধমূলক। শনিবার ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র সরদার নাইনি এই মন্তব্য করেছেন। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেছেন, আমাদের দুটি ইরানি ব্যাংকে শত্রুপক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) হামলার জবাবে আমেরিকান ব্যাংকের শাখাগুলোতে ওই হামলা চালানো হয়েছে।সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটায়, তাহলে এই অঞ্চলে অবস্থিত সব আমেরিকান ব্যাংকের শাখা আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

    দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার ঘটনার পর দুবাইয়ে অবস্থিত সিটিগ্রুপ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতো বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার জবাব দেয়া হবে: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানিগুলো বা যেসব কোম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার রয়েছে, সেসব স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। সংবাদ সংস্থা ওয়াইসিজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আরাগচি আরো বলেন, প্রতিশোধমূলক হামলার সময় দেশটি সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেবে, যাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো লক্ষ্যবস্তু না হয়।

    হরমুজ প্রণালির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী খোলা থাকলেও শত্রু এবং তাদের মিত্রদের তেলের ট্যাংকার ও জাহাজকে এ পথ দিয়ে চলাচল করতে দেবে না ইরান।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ৮২৬

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৮২৬ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৯ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৬৫ জন নারী এবং ১০৬ জন শিশু রয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত স্বাস্থ্যকর্মীদের (প্যারামেডিক) সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। বুর্জ কালাউইয়া এলাকার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ দুই স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহ উদ্ধারের পর এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হলো।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সরাসরি হামলা বা নিরাপত্তা হুমকির কারণে পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    অবিলম্বে আবুধাবি ও দুবাইয়ের বন্দর এলাকা খালি করার আহ্বান ইরানের

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দাদের আবুধাবি ও দুবাইয়ের বন্দর এলাকা অবিলম্বে খালি করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনগণকে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে ‘অবিলম্বে’ সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে তেহরান। তাসনিমের খবরে বলা হয়, এই এলাকাগুলি ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে, কারণ এখানে মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক স্থাপনাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। এই স্থাপনাগুলি কয়েক ঘন্টার মধ্যে হামলার শিকার হতে পারে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালির উপকূলে ভয়াবহ বোমা হামলার অঙ্গীকার ট্রাম্পের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন, অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা এ প্রণালি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের বিষয়ে আগের দাবিগুলোর পুনরাবৃত্তি করলেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, এ গুরুত্বপূর্ণ পথে ইরানের জন্য একটি বা দুটি ড্রোন পাঠানো, মাইন ফেলা বা স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সহজ।

    ট্রাম্প বলেন, আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশ যারা এ কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা এ অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। যেন একটি দেশ যাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে, তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আর কোনো হুমকি হয়ে না দাঁড়াতে পারে।

    তিনি আরো অঙ্গীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ বোমা হামলা চালাবে এবং যেভাবেই হোক এ প্রণালি উন্মুক্ত করবেন।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইসরায়েলে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

    ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বাহিনী নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করেছে; তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

    ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান তাদের উন্নতমানের অস্ত্র, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অধিক ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে।

    ইরানের এ হামলার ঘোষণার পর ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনাক্তের কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম জেরুজালেমের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

    দেশটির সামরিক বাহিনী আরো জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ হুমকি মোকাবেলায় (ইন্টারসেপ্ট করতে) কাজ করছে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    বৈরুতের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১, আহত ৪: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতের পূর্বদিকের একটি এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।

    গত সপ্তাহে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর থেকে লেবাননে তীব্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে প্রাণহাণির সর্বশেষ সংখ্যা

    ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা-পাল্টা হামলায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা

    - ইরান: ১ হাজার ৪৪৪ জন

    - লেবানন: ৭৭৩ জন

    - ইসরায়েল: ১৪ জন

    - সংযুক্ত আরব আমিরাত: ৬ জন

    - বাহরাইন: ২ জন

    - সৌদি আরব: ২ জন

    - কুয়েত: ৬ জন

    - ওমান: ৩ জন

    - মার্কিন বাহিনী: ১১ জন

    - ইরাক: ২৬ জন

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ভারতের পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদে অতিক্রম করেছে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি ট্যাংকার। ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোর উদ্দেশে রওনা হওয়া তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী দুটি ভারতের পতাকাবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

    নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা বলেন, জাহাজ দুটি আজ ভোরে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং ভারতের পথে রয়েছে।

    ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালিও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশ কয়েকটি ভারতীয় জাহাজকে সীমিত পরিসরে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে কতটি জাহাজকে এই অনুমতি দেয়া হয়েছে তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরানের খার্গ দ্বীপে ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের দাবি সেন্টকমের

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত রাতে ইরানের খার্গ দ্বীপে চালানো হামলাকে একটি বৃহৎ আকারের নিখুঁত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এ হামলায় নৌ-মাইন সংরক্ষাণাগার, ক্ষেপণাস্ত্র স্টোরেজ বাঙ্কার এবং আরো একাধিক সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী তেল অবকাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে ইরানের ৯০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    একশর বেশি হিজবুল্লাহ কমান্ড সেন্টারে হামলার দাবি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের সর্বশেষ টেলিগ্রাম আপডেটে জানিয়েছে, শুক্রবার বৈরুত এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে একাধিক কমান্ড সেন্টার বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ছিল।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর মোট প্রায় ১১০টি কমান্ড সেন্টারে আঘাত হেনেছে সেনাবাহিনী।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    আবুধাবি ও বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার দাবি ইরানের নৌবাহিনীর

    আইআরজিসির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ অঞ্চলের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর টানা কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে ইরান। তিনি নির্দিষ্টভাবে আবুধাবির আল-ধাফরা এবং বাহরাইনের শেখ ইসা মার্কিন ঘাঁটির নাম উল্লেখ করেছেন।

    তাংসিরি দাবি করেছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, বিমান এবং বিমানের জ্বালানি সংরক্ষণের ট্যাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    তেল রফতানির জন্য হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে ইরাক

    ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় আল জাজিরা অ্যারাবিককে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বিকল্প পথ খুঁজে বের করার কাজ করছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে।

    মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ইরাকের কিরকুক শহর থেকে তুরস্কের তেল হাব সেয়হান পর্যন্ত তেল পাইপলাইনটি পুনরায় সচল করার জন্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তবে তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রফতানি অব্যাহত রয়েছে: ইরানি কর্মকর্তা

    ইরানের একজন কর্মকর্তা সে দেশের সংবাদ সংস্থাগুলোকে জানিয়েছেন, খার্গ দ্বীপ থেকে তেল রফতানি পুরোদমে চলছে এবং সেখানে তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কোনো বাধা ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। ইরনার এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশেরও বেশি এ খার্গ দ্বীপ থেকে সম্পন্ন হয়।

    এর আগে ওই দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলার দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছিল, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার আয়োজনে প্রস্তুত ফ্রান্স

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, প্যারিসে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত তিনি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে মাখোঁ বলেন, শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং পার্লামেন্ট স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী।

    পোস্টে মাখোঁ লিখেছেন, ইসরায়েলের উচিত আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি শুরুর সুযোগ গ্রহণ করা, একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালনের সুযোগ দেয়া।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বাহরাইন

    বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করেছে দেশটি।

    ছোট এ উপসাগরীয় দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট অবস্থিত। গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশটি ক্রমাগত ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    খার্গ দ্বীপে হামলার পর আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু: আইআরজিসি

    ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংযুক্ত আরব আমিরাতকে জানিয়েছে, সেখানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন থেকে তাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু।

    ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহর, বন্দর এবং ডকগুলোতে আশ্রয় নেয়া মার্কিন সেনাদের ঘাঁটি এবং যেখান থেকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ছে, সেখানে আঘাত হেনে সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করাকে নিজেদের বৈধ অধিকার বলে মনে করছে আইআরজিসি।

    বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ বাসিন্দা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে বন্দর, ডক এবং মার্কিন সামরিক এলাকাগুলো থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরানের কুর্দিস্তানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১১২: গণমাধ্যম

    কুর্দিস্তান প্রাদেশিক জরুরি বিভাগের প্রধানের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছেন, ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১১২ জন নিহত হয়েছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, এসব হামলায় অন্তত ৯৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ওই কর্মকর্তার দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ২৭ জন সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৫ জন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।

    সূত্র- আল জাজিরা

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরানে শিশুসহ একই পরিবারের নিহত ৬

    ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের আইভান শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুসহ একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, একটি আবাসিক ভবনে ওই হামলা চালানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করতে ইরানের প্রতি হামাসের আহ্বান

    প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক রীতি ও আইন অনুযায়ী যেকোনো উপায়ে এ আগ্রাসনের (ইরানে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের হামলা) জবাব দেওয়ার অধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির রয়েছে। তবে হামাস ইরানের ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, তারা যেন প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে বিরত থাকে।

    এর আগে যুদ্ধ শুরুর দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল হামাস।

    খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই এক বিবৃতিতে হামাস বলেছিল, ‘তিনি আমাদের জনগণ, আমাদের লক্ষ্য ও আমাদের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সব ধরনের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন।’

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২৫০০ মার্কিন সেনা, সঙ্গে রয়েছে ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ

    ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন স্থলসেনা রওয়ানা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মার্কিন মেরিন সেনার একটি দল মোতায়েন করা হচ্ছে। ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা এখন জাপানের ওকিনাওয়ায় তাদের নিজ বন্দর থেকে ইউএসএস ত্রিপোলির পাশে রওনা দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’। এ জাহাজ থেকে মেরিন সদস্যদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হবে। যেকোনো সংকট মোকাবেলা বা ইরানের কোনো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রয়োজনে তাদের ব্যবহার করা হতে পারে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    খার্গ দ্বীপে এখনো কার্যক্রম চালাচ্ছে ইরানের সেনাবাহিনী: প্রতিবেদন

    ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপ থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেলেও দ্বীপে ইরানি সামরিক বাহিনী এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বীপের প্রতিরক্ষা পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় ট্রাম্পের দাবি অবৈধ হয়ে গেছে।‘

    প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, হামলার সময় দ্বীপে ১৫টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কোনো তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে ‘সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন’ করে দিয়েছেন। কিন্তু ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই দাবি এখন প্রশ্নের মুখে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরাকের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে একদিনে ৮ বার হামলা

    ইরাকের ২ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮ বার হামলা চালিয়েছে ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক দলগুলোর জোট দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ই ইরাক। শনিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স।

    ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি ঘাঁটি আছে— আল হারির বিমান এবং আল আসাদ। দু’টিই বিমানঘাঁটি। শনিবারের বিবৃতিতে দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স জানিয়েছে, দু’টি বিমানঘাঁটিতেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে জোটের যোদ্ধারা।

    দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের বিবৃতিতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি, আল হারির এবং আল আসাদ বিমানঘাঁটি কিংবা যুক্তরাস্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন বিমান ঘাঁটিগুলোর পাশাপাশি ইরাকে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দ্য ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। এতে দূতাবাসের হেলিপ্যাড ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাকের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিলে কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের নতুন নেতৃত্বকে খুঁজে বের করতে এবার ‘পুরস্কার’ ঘোষণা করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। গত শুক্রবার তাদের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, ইরানের নব্য সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অবস্থান বা পরিচয় শনাক্ত করতে সাহায্য করলে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেয়া হবে। পেন্টাগনের ভাষায়, এই ব্যক্তিরা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর বিভিন্ন শাখাকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনা দেন, যাদের ওয়াশিংটন বিশ্বজুড়ে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে।

    তালিকার শীর্ষে থাকা মোজতবা খামেনির পাশাপাশি মার্কিন নজরদারিতে রয়েছেন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের উপ-প্রধান আলী আসগর হেজাজি এবং সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি। অথচ এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে, ইরানের নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা বর্তমানে ‘আহত’ এবং সম্ভবত তার ‘অঙ্গহানি’ ঘটেছে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    ইরান যুদ্ধে ‘মার্কিনিদের সাফল্য দেখানো হচ্ছে না’, মিডিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হেগসেথ

    ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে ‘নজিরবিহীন সাফল্য’ হিসেবে দাবি করে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দেশটির প্রধান ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা ওয়াশিংটনের সামরিক অর্জনগুলোকে খাটো করে দেখানোর জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক শিরোনাম ও গ্রাফিক্স ব্যবহার করছেন। হেগসেথের মতে, সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত যুদ্ধের সঠিক এবং দেশপ্রেমমূলক চিত্র তুলে ধরা।

    সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ নিজেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য কিছু শিরোনামের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় যখন ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি’-এর মতো ব্যানার দেখানো হয়, তখন তা পরিবর্তন করে ‘ইরান ক্রমেই মরিয়া হয়ে উঠছে’ লেখা উচিত।

    তার দাবি, ইরান এখন মানসিকভাবে ও সামরিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং তারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে লুকিয়ে আছে। যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘ইঁদুরের গর্তে লুকানো’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    হেগসেথ বিশেষ করে সিএনএন-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ডেভিড এলিসন যত দ্রুত এই নেটওয়ার্কটির দায়িত্ব নেবেন, ততই মঙ্গল।‘

    উল্লেখ্য, এলিসন বর্তমানে সিএনএন-এর মূল কোম্পানি ওয়ার্নার ব্রস ডিসকভারি অধিগ্রহণের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এ ছাড়াও, ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। হেগসেথের কিছু ‘অপ্রীতিকর’ ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর পেন্টাগন থেকে বেশ কিছু ফটোগ্রাফারকে ব্রিফিংয়ে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

    যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পাওয়া নিয়েও হেগসেথ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যুর মতো ঘটনাকে প্রধান শিরোনাম করায় তিনি বিরক্ত। তার ভাষ্যমতে, এ ধরনের ঘটনাকে বড় করে প্রচার করা হয় শুধু প্রেসিডেন্টকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। হেগসেথ পুনরায় এই সংঘাতকে ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। যদিও আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে তার এই ‘নো কোয়ার্টার’ (কোনো ছাড় নয়) বা কঠোর সামরিক নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    খার্গ দ্বীপ কেন ইরানের কাছে এতটা গুরুত্বপূর্ণ

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে গত রাতের ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন বাস্তবতায় নিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কৌশলগত তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এখন সরাসরি যুদ্ধের মানচিত্রে চলে এসেছে—যে স্থানটিকে এতদিন ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণের বাইরে রাখা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দ্বীপটির সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যদিও তেল অবকাঠামো আপাতত অক্ষত রাখা হয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে একটি বড় কৌশলগত সীমা ভেঙে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    পারস্য উপসাগরের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থানই একে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় দাবার ঘুঁটিতে পরিণত করেছে। খার্গ দ্বীপের মূল শক্তি হলো এর প্রাকৃতিকভাবে গভীর সমুদ্রের অবস্থান। পারস্য উপসাগরের অধিকাংশ উপকূলীয় এলাকা অগভীর হওয়ায় বড় বড় সুপারট্যাঙ্কার সব জায়গায় ভিড়তে পারে না। কিন্তু খার্গ দ্বীপটি উপকূল থেকে প্রায় ১৬ মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে অবস্থিত হওয়ায় এখানে পৃথিবীর বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজগুলো সহজেই নোঙর করতে পারে।

    দ্বীপটিতে রয়েছে বিশাল তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, পাইপলাইন এবং গভীর পানির জেটি—যেখানে একসঙ্গে একাধিক সুপারট্যাংকার তেল বোঝাই করতে পারে। এই কেন্দ্রটি ইরানের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি পাইপলাইনে যুক্ত। ফলে খার্গে বড় ধরনের ক্ষতি মানেই ইরানের বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎসে আঘাত। বহু বিশ্লেষক খার্গ দ্বীপকে ‘ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ বলে আখ্যা দেন।

    গত রাতের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপের সামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে মূলত ইরানের সেই 'গভীর সমুদ্রের প্রবেশদ্বার' বা ডিপ-ওয়াটার এক্সেসকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ভৌগোলিক এই সুবিধার কারণেই ইরান অন্য কোনো বন্দর দিয়ে তাদের তেলের ৯০ শতাংশ রফতানি করার বিকল্প হয়তো সহসাই খুঁজে পাচ্ছে না।

    এই দ্বীপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চতা এবং পারস্য উপসাগরের জাহাজ চলাচলের প্রধান রুটগুলোর ওপর এর নজরদারি করার ক্ষমতা। এটি অনেকটা সমুদ্রের মাঝখানে বসানো একটি প্রাকৃতিক নজরদারি টাওয়ারের মতো। এখান থেকে হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা বা বেরিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজের ওপর ইরান কড়া নজর রাখতে পারত। মার্কিন বাহিনী যখন এই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হেনেছে, তখন তারা মূলত ইরানের সেই ‘নজরদারি চোখ’ উপড়ে ফেলেছে। ফলে ভৌগোলিকভাবে সুরক্ষিত এই কেন্দ্রটি এখন কার্যত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিহীন এক ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।

    খার্গ দ্বীপের ভূ-সংস্থানগত কাঠামোও একে অনন্য করে তুলেছে। দ্বীপটির চারপাশের সমুদ্র অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং প্রবাল প্রাচীর ঘেরা, যা সাবমেরিন বা কমান্ডো আক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু আধুনিক ড্রোন এবং নিখুঁত বিমান হামলার মুখে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর আর কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, খার্গের ভৌগোলিক গুরুত্বই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ এটি ইরানের মূল ভূখণ্ডের বাইরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় একে আকাশপথ থেকে লক্ষ্যবস্তু করা অনেক সহজ।

    নতুন এই পরিস্থিতিতে খার্গ দ্বীপ এখন এক ভয়াবহ সংকটের মুখে। একদিকে এর ভৌগোলিক গভীরতা ইরানকে বিশ্ববাজারে তেল পাঠানোর একমাত্র সুযোগ করে দিচ্ছে, অন্যদিকে সেই একই বিচ্ছিন্ন অবস্থান একে শত্রুর জন্য একটি সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। যদি এই দ্বীপের টার্মিনালগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়, তবে ইরানের অর্থনীতি কার্যত একটি ‘বন্দি অর্থনীতিতে’ পরিণত হবে, কারণ স্থলপথে বা অগভীর বন্দরের মাধ্যমে এত বিশাল পরিমাণ তেল রফতানি করা ভৌগোলিকভাবেই অসম্ভব।

  • ১৪ মার্চ, ২০২৬

    খার্গ দ্বীপে হামলায় জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ার শঙ্কা

    ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খারিগ দ্বীপে মার্কিন হামলার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এবং প্রভাষক এড হার্স আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে ইরানের তেল রফতানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দ্বীপের তেল অবকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে। তবে হার্স মনে করেন, এত ছোট একটি দ্বীপে নিখুঁতভাবে শুধু সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা এবং তেল টার্মিনালগুলো সুরক্ষিত রাখা প্রায় অসম্ভব।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই হামলার ফলে ইরানের তেল রফতানি ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একই সঙ্গে ইরাক ও কুয়েতের সরবরাহ বন্ধ থাকে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অভাবনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। বর্তমানে চলমান এই যুদ্ধ যদি আরো কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী স্থায়ী হয়, তবে জ্বালানি সংকটের প্রভাব আরো তীব্র হবে। বিশেষ করে এশীয় অর্থনীতির দেশগুলো, যারা অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    এদিকে খার্গ দ্বীপের ওপর মার্কিন হামলার পর থেকে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা এরইমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ নিয়মিত না হওয়ায় অনেক দেশ বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই জ্বালানি সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরাকের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে একদিনে ৮ বার হামলা

ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্বীপে অবস্থিত ইরানের সকল সামরিক লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে বর্তমান দফায় দ্বীপের মূল তেল অবকাঠামোগুলোকে অক্ষত রাখা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে। মূলত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বাধা সৃষ্টি করার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অবাধ পথে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে তিনি তার বর্তমান সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করবেন। এর অর্থ হলো, পরবর্তী ধাপে সরাসরি ইরানের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। খার্গ দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে এই হামলার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় হামলার শিকার হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এরইমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরান ও বৈরুতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত বোমাবর্ষণ করছে। এর বিপরীতে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে আরও ২,৫০০ মেরিন সেনা এবং অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও