ইরাকের দুই মার্কিন ঘাঁটিতে একদিনে ৮ বার হামলা
ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্বীপে অবস্থিত ইরানের সকল সামরিক লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে বর্তমান দফায় দ্বীপের মূল তেল অবকাঠামোগুলোকে অক্ষত রাখা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে। মূলত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বাধা সৃষ্টি করার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের অবাধ পথে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে তিনি তার বর্তমান সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করবেন। এর অর্থ হলো, পরবর্তী ধাপে সরাসরি ইরানের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। খার্গ দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে এই হামলার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিঘ্ন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় হামলার শিকার হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এরইমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তেহরান ও বৈরুতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত বোমাবর্ষণ করছে। এর বিপরীতে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে আরও ২,৫০০ মেরিন সেনা এবং অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।