ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লির পথে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেছেন, গ্রেফতার করা হলেও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াব না। তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
বিক্ষোভের আগে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দীপকে। তার দাবি, তরুণ ও সাধারণ মানুষ সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
দীপকের অভিযোগ, দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ, সড়কে বাধা এবং রেল ও মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সেনাসদস্য এবং নকশাল-প্রভাবিত এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) সদস্যদের এনে মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি অবাক হয়ে ভাবছি, দেশের প্রধানমন্ত্রী তরুণ ও সাধারণ মানুষকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? সব রেল পরিষেবা বন্ধ করার কী প্রয়োজন ছিল? মেট্রো চলাচল বন্ধ করারই বা কী দরকার ছিল? ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ কি নিজেদের দেশের জনগণের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতে চান?
বিক্ষোভে মানুষের অংশগ্রহণ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আশঙ্কা করছেন, এসব ঘটনার পর মানুষ তাকে আর ভোট দেবেন না। এ কারণে বিক্ষোভে যোগ দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বাধা দেয়া হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ট্রেনে থাকা মানুষকে নামিয়ে আটক করা হচ্ছে, বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বিক্ষোভে অংশ না নেয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং দিল্লি পুলিশ মানুষের বাড়িতে গিয়ে তাদের কর্মসূচিতে যোগ না দিতে বলছে।
দীপকে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। ভারতের সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার তাদের রয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে আটক বা গ্রেফতার করা হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে দীপকে বলেন, এ জন্য আমি প্রস্তুত। তারা যদি আমাকে আটক বা গ্রেফতার করতে চায়, করুক। ইউএপিএ বা এনএসএ প্রয়োগ করলেও আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।