প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি-বেঙ্গালুরু

কর্মসূচিতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠি, অভিনেতা-অ্যাক্টিভিস্ট প্রকাশ রাজ ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ভারত। ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভের মধ্যে গতকাল ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে বেঙ্গালুরুতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। একই দিন দিল্লিতেও কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

এরই মধ্যে আগামীকাল দিল্লির যন্তর মন্তরে আরো বড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামে ডাকা এ কর্মসূচির মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করা। আয়োজকরা ভারতের জনগণকে কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির বিরোধী দলগুলোও এতে যোগ দিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এখনো কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরের পথে বাধা দেয়া হলে যেখানে পুলিশ আটকাবে, সেখানেই অবস্থান শুরু করা হবে।

গতকাল বেঙ্গালুরুর বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘প্রতিটি নাম গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘গণতন্ত্র হত্যা বন্ধ করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

কর্মসূচিতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ধ্রুব রাঠি, অভিনেতা-অ্যাক্টিভিস্ট প্রকাশ রাজ ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন।

অন্যদিকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ছিল নয়াদিল্লি। বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের কয়েকশ এমপি ও তাদের হাজারো সমর্থক রাজঘাটে গিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ করে। কর্মসূচির আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আমন্ত্রণে কনট প্লেসের একটি রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজে মিলিত হন বিরোধী জোটের এমপিরা। সেখান থেকে বাসে ও হেঁটে তারা মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটে যান। নেতাদের সঙ্গে হাজারো কর্মী-সমর্থকও মিছিলে যোগ দেন। তাদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড; জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগানের পাশাপাশি ছোট ছোট ঢোল বাজাতে দেখা যায়।

রাজঘাটে পৌঁছে প্রায় ১ ঘণ্টা অবস্থান করেন বিরোধী নেতারা। এর আগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি না পাওয়ায় কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করা হয়। বিক্ষোভ ঘিরে রাজঘাট ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যান চলাচলেও বড় ধরনের বিধিনিষেধ দেয় দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘প্রায় ৩০০ বিরোধী এমপি শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চেয়েছিলেন। প্রথম দিন নির্বাচন কমিশনের সামনে এবং পরদিন যন্তর মন্তরে তাদের যেতে বাধা দেয়া হয়েছে।’ তার অভিযোগ, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর বলপ্রয়োগও করা হয়েছে।

কংগ্রেসের রাহুল ও প্রিয়াংকা গান্ধী ভাদ্রা ছাড়াও কেসি ভেনুগোপাল, মানিকম ঠাকুরসহ দলটির একাধিক এমপি কর্মসূচিতে ছিলেন। সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর নেতারাও এতে অংশ নেন। এর একদিন আগে বুধবার যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াংকা ও অন্য বিরোধী এমপিদের আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে বিরোধীদের মিছিল আটকে দেয়া হয়েছিল।

আরও