ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক সূত্রগুলো। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। খবর রয়টার্স।
ইয়েমেন সরকারের চারটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মোখা দখলের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালাচ্ছে তারা। পরে ইয়েমেন সরকারের আরো দুটি সূত্র জানায়, হুতিরা এরই মধ্যে দ্বীপগুলোয় পৌঁছে গেছে।
বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুতিরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে অবস্থিত হরমুজ প্রণালির মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক সৌদি আরব লোহিত সাগরের নৌরুটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বৃহস্পতিবার অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে।
এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তান মঙ্গলবার তেহরানের কাছে ওই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, হুতিদের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নেই।
ইরানের সমর্থিত আঞ্চলিক জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হুতিরা গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে। তারা ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেন সরকারের বাহিনী ও তাদের মিত্ররা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণে ধুবাবের দিকে সরে যাচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। ধুবাব বাব আল-মান্দাব প্রণালির সরাসরি প্রবেশমুখে অবস্থিত এবং এর বিপরীতে রয়েছে পেরিম দ্বীপ। সূত্রগুলোর মতে, প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগরে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনে বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে জাহাজগুলো সুয়েজ খাল কিংবা মিসরের লোহিত সাগর উপকূলের সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইন ব্যবহার করে। এশিয়াগামী পণ্য, এমনকি রাশিয়ার তেল পরিবহনেও এ নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ।