নতুন পোপ নির্বাচনের শতাব্দী প্রাচীন প্রক্রিয়া

পরবর্তী পোপ নির্বাচন করতে ভ্যাটিকানে একত্রিত হবেন ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষ ধর্মগুরুদের সংগঠন কলেজ অব কার্ডিনালস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা রোমে আসবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং এক ঐতিহাসিক ও গোপন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। যার নাম কনক্লেভ।

ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মে পোপ সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। যিনি পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন, তিনি ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান ও পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সব ক্যাথলিক চার্চের প্রধান। বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান পোপের কর্তৃত্ব স্বীকার করে।

পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর শুরু হবে নতুন পোপ নির্বাচনের তোড়জোর। এ প্রক্রিয়াও শতাব্দী প্রাচীন। পোপের মৃত্যু এবং নতুন পোপ নির্বাচনের মাঝের সময়কে বলে ‘সেডে ভেকান্টে’। ল্যাটিন এই শব্দের অর্থ ‘দ্য সিট ইজ ভ্যাকেন্ট’ বা আসন খালি। এ সময়ের মধ্যে মৃত পোপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পাশাপাশি নতুন পোপ নির্বাচন করা হয়।

পরবর্তী পোপ নির্বাচন করতে ভ্যাটিকানে একত্রিত হবেন ক্যাথলিক চার্চের শীর্ষ ধর্মগুরুদের সংগঠন কলেজ অব কার্ডিনালস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তারা রোমে আসবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবং এক ঐতিহাসিক ও গোপন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। যার নাম কনক্লেভ। এটি লাতিন শব্দ ‘কাম ক্লেভ’ থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ ‘চাবি-সহ’ বা ‘অবরুদ্ধ বৈঠক’।

কনক্লেভে উপস্থিত থাকেন কার্ডিনাল ইলেক্টররা। মৃত পোপকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকেই কার্ডিনালরা এসে পৌঁছান ভ্যাটিকান সিটিতে। নিয়ম অনুযায়ী, পোপের মৃত্যুর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কার্ডিনালদের অবশ্যই ভ্যাটিকানে পৌঁছতে হয়। তারা বিশেষভাবে নির্ধারিত বাসস্থানে অবস্থান করেন। নতুন পোপ নির্বাচনের জন্য সম্মেলন পরিচালনা করেন এবং তারাই ভোট দিয়ে পরবর্তী পোপ নির্বাচিত করেন। প্রায় ১২০ জন কার্ডিনাল ভোটদান প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। যদিও বিশ্বব্যাপী কার্ডিনালের সংখ্যা প্রায় ১৯৫, তবে ৮০ বছরের বেশি বয়সী কার্ডিনালদের ভোট দেয়ার অনুমতি নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন কার্ডিনালরা ভ্যাটিকান প্রাসাদে জড়ো হন। নতুন পোপ নির্বাচিত করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। নির্ধারিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ভোট চলতে থাকে।

দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে নির্বাচিত কার্ডিনালকে পোপ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তিনি জয় স্বীকার করলে পরবর্তী পোপ হন। আর যদি কোনো কার্ডিনাল দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পান তখন সব ভোটের স্লিপ নির্দিষ্ট চুল্লিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়। সে চুল্লির চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া দেখেই সবাই বুঝতে পারেন পোপ নির্বাচন হয়নি। তখন আবার একই প্রক্রিয়া শুরু হয়। পোপ নির্বাচনের জন্য এ ভোটাভুটি ও আলোচনা সবই হয় একটি বন্ধ কক্ষে।

পোপ নির্বাচন হয়ে গেলে শুরু হয় নাম ঘোষণার প্রক্রিয়া। ঊর্ধ্বতন কোনো কার্ডিনাল তখন পোপের নতুন নাম ঘোষণা করেন। নতুন পোপ নতুন পোশাক পরে জনসম্মুখে আসেন। এরপর পরেন ‘ফিশারম্যান রিং’। ঈশ্বরের নামে শপথ নিয়ে তিনি ভ্যাটিক্যানের ব্যালকনি থেকে ভাষণ দেন।

আরও