কয়লা বাদ না দিয়েও কি পরিবেশবান্ধব হওয়া সম্ভব ভারতের

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে ভারতের কয়লা নির্ভরতা অনেককেই বিস্মিত করে। দেশটির নিজস্ব লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৭০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নির্গমন অর্জনের অঙ্গীকার থাকলেও, ভারত এখনো বড় আকারে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো—দ্রুত বর্ধনশীল বিদ্যুৎ চাহিদা।

ভারতে জ্বালানির খাতে কয়লার আধিপত্য এখনো অটুট। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই আসে কয়লা থেকে, আর তা থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবতা বলছে—এখনই তা সম্ভব নয়। পরিবেশবিদরা যখন কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছেন তখন সরকারের কাছে এটি এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। খবর বিবিসি।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে ভারতের কয়লা নির্ভরতা অনেককেই বিস্মিত করে। দেশটির নিজস্ব লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৭০ সালের মধ্যে নিট শূন্য কার্বন নির্গমন অর্জনের অঙ্গীকার থাকলেও, ভারত এখনো বড় আকারে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো—দ্রুত বর্ধনশীল বিদ্যুৎ চাহিদা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চাহিদা বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এটি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এই বিশাল চাহিদা মেটাতে কয়লাই এখনো সবচেয়ে সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য উৎস।

বর্তমানে ভারতের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশই কয়লা থেকে আসে। যদিও সৌর ও বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে তবে সেগুলো দিনে বা আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সবসময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না। তাই সৌর বা বায়ু শক্তি ব্যর্থ হলে কয়লার দিকেই ফিরতে হয়।

এখন ভারত চাইছে কয়লার ব্যবহার বন্ধ না করে বরং নির্গমন কমিয়ে পরিবেশের ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো। সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর নির্গমন কমাতে পারলে ভারতের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

তবে তা সহজ নয়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সাধারণত সর্বনিম্ন ৫৫ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতায় চালু রাখতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে হঠাৎ বিদ্যুৎ জোগান দেয়া যায়। আবার কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি এখনো সীমিত, ব্যয়বহুল এবং কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি। ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, এই প্রযুক্তির সাহায্যে এখনো কেবল দশমিক ১ শতাংশ বৈশ্বিক নিঃসরণ আটকানো সম্ভব হয়েছে।

কিছু এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কৃষি আবর্জনা, যেমন ধানের গাছের খড়, পোড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি করা হচ্ছে। দিল্লি ও আশপাশে এটি ভালো কাজ করছে। তবে সারা দেশে এই পদ্ধতি এখনো জনপ্রিয় হয়নি।

পরিবেশ রক্ষার জন্য কয়লা ব্যবহার কমানো জরুরি। কিন্তু দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা ও শিল্প খাতের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গিয়ে ভারত এখন এমন এক চক্রে আটকে পড়েছে, যেখানে কয়লাকে বাদ দিয়ে উপায় নেই। ফলে এখন মূল লক্ষ্য—যতটা সম্ভব পরিষ্কারভাবে কয়লা ব্যবহার করা।

আরও