একসময় যিনি ছিলেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রিয় পুত্র এবং সাহসী সামরিক কর্মকর্তা— সেই প্রিন্স অ্যান্ড্রু এখন জনসমক্ষে পরিচিত এক বিতর্কিত রাজকুমার হিসেবে। কারণ, তার বিরুদ্ধে উঠেছিল এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। দীর্ঘদিনের সমালোচনা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের যৌন নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত প্রয়াত মার্কিন আর্থিক জালিয়াত জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ৬৫ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু গত শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তার ‘ডিউক অফ ইয়র্ক উপাধিটি ত্যাগ করবেন। খবর রয়টার্স।
ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি কিশোরী অবস্থায় এপস্টাইন ও তার সহযোগীদের মালিকানাধীন বিভিন্ন বাড়ি ও রিসোর্টে অ্যান্ড্রুর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অ্যান্ড্রু এসব অভিযোগ স্বীকার করেননি। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি মার্কিন মামলা নিষ্পত্তির জন্য অ্যান্ড্রু অপ্রকাশিত অর্থ পরিশোধ করেন বলেও প্রমাণিত হয়েছে।
বিতর্কের পর তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং তার কাছ থেকে সামরিক পদ, পৃষ্ঠপোষকতা ও ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি প্রত্যাহার করা হয়।
জনগণের কাছে ক্রমশ অপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং পুরো রাজপরিবারের জন্য বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ানোয় তাকে পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। কেবলমাত্র তার প্রয়াত মা, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথই তার প্রতি স্নেহ বজায় রেখেছিলেন।
নৌবাহিনীতে ২২ বছর দায়িত্ব পালনের পর অ্যান্ড্রু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন। কিন্তু এপস্টাইনের সঙ্গে তার বহু পুরনো বন্ধুত্বই তাকে বিপদে ফেলে। ২০০৮ সালে শিশু যৌন অপরাধে এপস্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পরও অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার সম্পর্ক বজায় ছিল। এই সম্পর্কের জেরে ২০১১ সালে তাকে ট্রেড অ্যাম্বাসেডরের পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তার বিলাসী জীবনযাপন ও এপস্টাইনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে তাকে কুখ্যাত করে তোলে।
২০১৯ সালে বিবিসিকে দেয়া তার ‘ভয়াবহ’ সাক্ষাৎকারটি তার রাজকীয় জীবনকে কার্যত শেষ করে দেয়। সাক্ষাৎকারে তিনি জিউফ্রের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হয়।
রাজপরিবারের একসময়কার প্রিয় সন্তান প্রিন্স অ্যান্ড্রু এখন কেবল বিতর্কিত অতীতের ভারে নত এক রাজপুত্র। ডিউক উপাধি ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি যেন নিজের পতনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেন।