ভারতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (দেশটিতে অর্থবছর হিসাব হয় এপ্রিল-মার্চ সময়সীমায়) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। শক্তিশালী ভোক্তাব্যয়, উৎসব মৌসুমের আগে আগাম উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এর আগে বার্তা সংস্থাটি পরিচালিত এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ভারতে মোট ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে দেশটিতে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত মোট শুল্কহার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছিল ভারত। এপ্রিল-প্রান্তিকে দেশটিতে অর্থনীতি সম্প্রসারণের হার ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
ভারতীয় জিডিপির প্রায় ৫৭ শতাংশ জুড়ে রয়েছে ব্যক্তি পর্যায়ের ভোক্তাব্যয়। ভারত সরকারের শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটিতে ভোক্তাব্যয় বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ হার ছিল ৭ শতাংশ।
রুশ জ্বালানি তেল আমদানির শাস্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। এ সময় দেশটি থেকে বিদেশে পণ্য রফতানির চাহিদায়ও পতন দেখা যায়। এ অবস্থায় ভোক্তাব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে শুল্কবৃদ্ধির প্রভাব কমাতে সাধারণ ভোগ্যপণ্যের ওপর কর হ্রাসের উদ্যোগ নেয়া হয়, যা সেপ্টেম্বরের শেষে কার্যকর হয়।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎসব মৌসুমের জন্য মজুদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ কার্যকরের আগে রফতানিকারকদের দ্রুত রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ গত প্রান্তিকে এ বড় প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় দেশটিতে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশে। আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, যা যেখানে আগের প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
এ সময় দেশটিতে সরকারি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।