তাইওয়ানে বিতর্কিত ‘রিকল’ ভোট, পার্লামেন্টে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের সম্ভাবনা

‘দাবামিয়ান’ বা ‘গ্রেট রিকল’ নামে পরিচিত এই গণআন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ভোটের মাধ্যমে ৩০-এর বেশি আইনপ্রণেতাকে অপসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শনিবার প্রথম ধাপে ২৪টি জেলার মানুষ রিকল ভোট দিচ্ছে। এতে যদি ২৫ শতাংশ ভোটারও অংশ নেয় এবং ৫০ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেয় তবেই আসনগুলো খালি হয়ে যাবে। এরপর আগামী তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে তাইওয়ানে এক অভূতপূর্ব ও বিতর্কিত ‘রিকল ভোট’ বা প্রত্যাহার ভোটে অংশ নিচ্ছেন হাজার হাজার নাগরিক। দাবামিয়ান’ বা ‘গ্রেট রিকল’ নামে পরিচিত এই গণআন্দোলন থেকে শুরু হওয়া ভোটের মাধ্যমে ৩০-এর বেশি আইনপ্রণেতাকে অপসারণের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এর ফলে তাইওয়ানের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি।

২০২৪ সালের জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) উইলিয়াম লাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও, আইনসভার নিয়ন্ত্রণ যায় বিরোধী কুওমিনতাং (কেএমটি) ও তাদের মিত্রদের হাতে। এরপর কেএমটি ও তাইওয়ান পিপলস পার্টিসহ কিছু স্বতন্ত্র সদস্য মিলে ডিপিপির গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো আটকে দিয়ে নিজেদের আইন পাশ করাতে থাকেন, যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

এর প্রতিবাদেই মে মাস থেকে গড়ে ওঠে ‘ব্লুবার্ড মুভমেন্ট’। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেএমটি চীনের হয়ে কাজ করছে। আর এর ফলে বেইজিং গোপনে তাইওয়ানের আইনসভায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে, কেএমটি-র কয়েকজন সংসদ সদস্য চীন সফরে গিয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা ওয়াং হুনিংর কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার পর এই সন্দেহ আরো তীব্র হয়।

ব্লুবার্ড আন্দোলনের কর্মীরা কেএমটি সদস্যদের প্রত্যাহারে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কেএমটি-সমর্থকরাও কিছু ডিপিপি আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে একই উদ্যোগ নেয়। তবে এখন পর্যন্ত যে ৩১টি আসনে চূড়ান্ত রিকল ভোট হচ্ছে, সবগুলোই কেএমটির। সফল হলে ডিপিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে পারে।

শনিবার প্রথম ধাপে ২৪টি জেলার মানুষ ভোট দিচ্ছে। এতে যদি ২৫ শতাংশ ভোটারও অংশ নেয় এবং ৫০ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দেয় তবেই আসনগুলো খালি হবে। এরপর আগামী তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে রিকল ভোট হয়েছে, কিন্তু এত স্বল্প সময়ে এত বড় পরিসরে কখনো হয়নি।

ডিপিপি শুরুতে আন্দোলন থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও পরে এর সমর্থন দেন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই। ডিপিপিকে জনগণের শক্তির সঙ্গে একাত্ম হয়ে দলীয় নেতাদের রিকলপন্থী কর্মীদের সহায়তা করার নির্দেশ দেন তিনি।

অন্যদিকে, কেএমটি ও তাদের মিত্ররা রিকল ভোটকে ডিপিপির একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে। তারা বলছে, এটি জানুয়ারির নির্বাচনের ফল উল্টে দেয়ার চেষ্টা। শুক্রবার তাইপেইতে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের সামনে নির্বাচন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভও করছে কুওমিনতাং (কেএমটি) এর সমর্থকরা।

আরও