বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় সংসদে অচলাবস্থা, চাপে মোদি সরকার

সংসদ অধিবেশনে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনার দাবি জানান বিরোধীরা। তবে আলোচনার আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান তাদের

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন আরো বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আজ সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন বিরোধী সাংসদরা। পরে সংসদের ভেতরেও একই দাবিতে হট্টগোল করায় উভয় কক্ষের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়। খবর রয়টার্স।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা কালো পোশাক পরে সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হন। এসময় তাদের হাতে ছিল ‘আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিক্রির জন্য নয়’ এবং ‘নিট বাঁচাও, জীবন বাঁচাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা।

পরে সংসদ অধিবেশনে দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনার দাবি জানান বিরোধীরা। তবে আলোচনার আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান তাদের।

লোকসভায় সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব সরকারের কড়া সমালোচনা করে এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য দাবি করেন। তার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে এবং এর দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘ছাত্রীদের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, লাঠিপেটা করা হয়েছে, অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, কারও হাত-পা ভেঙে গেছে। দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কি এভাবেই আচরণ করা হবে?’ এ ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে বক্তব্য দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এতে সংসদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান উভয়েই এ বিষয়ে সংসদে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। বিরোধীদের পদত্যাগের দাবির কারণেই আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে বলে দাবি করেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই বিতর্কে প্রস্তুত। বিরোধীরাই তা বিলম্বিত করছে।’

গত সোমবার দিল্লিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সংসদ অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এরপর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কংগ্রেস। কর্মসূচি থেকে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন শীর্ষ বিরোধী নেতাকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দ্বিতীয় দফা বৈঠকেরও কথা রয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার ১৬টি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। দিল্লির বাইরে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, গোয়া, গৌহাটি, তিরুবনন্তপুরম, জম্মু ও আহমেদাবাদেও ছাত্র ও বিরোধী দলগুলোর উদ্যোগে বিক্ষোভ হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমবারের মতো আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, সরকার নিট এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভারতের তরুণদের প্রতিটি যৌক্তিক উদ্বেগ নিয়ে আলোচনায় সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও