কলম্বিয়ায় সামরিক বাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় রয়টার্সকে দেয়া দুটি সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো মরদেহ উদ্ধার করায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। দেশটির বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক ইতিহাসের এটিকে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, পেরু সীমান্তের নিকটবর্তী পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়নের সময় লকহিড মার্টিনের তৈরি এ বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় দমকল বাহিনীর মতে, উড্ডয়নের শেষ প্রান্তে রানওয়েতে বিমানটি কোনো কিছুর সাথে সজোরে ধাক্কা খায় এবং পরবর্তীতে একটি গাছের সঙ্গে ডানা লেগে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি মাটিতে পড়ার পরপরই এতে আগুন ধরে যায় এবং ভেতরে থাকা বিস্ফোরক জাতীয় কোনো বস্তু বিস্ফোরিত হওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ মোটরসাইকেলের পেছনে করে আহত সেনাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে সামরিক উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছালেও দুর্গম পথের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। প্রাথমিকভাবে ১১০ জন সেনা ও ১১ জন ক্রুসহ মোট ১২১ জন আরোহীর কথা জানানো হলেও, নিহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তথ্যের কিছুটা গরমিল রয়েছে।
এ দুর্ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এক বার্তায় জানান, তরুণ সেনাদের জীবনের বিনিময়ে আর কোনো বিলম্ব সহ্য করা হবে না এবং যারা এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে তাদের অপসারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, কলম্বিয়ার দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ সংঘাত মোকাবেলায় সেনাদের যাতায়াতের জন্য এই হারকিউলিস বিমানগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বিধ্বস্ত বিমানটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা আধুনিক মডেলের একটি অংশ ছিল বলে জানা গেছে।