সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় শুরু হয়েছে দুদিনের ‘থাই ফেস্টিভ্যাল’। যেখানে একসঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে থাইল্যান্ডের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আর সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্ব। ২ ও ৩ মে রিয়াদের সাংস্কৃতিক ভবনে আয়োজিত এ উৎসব জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সুর ও স্বাদ বিনিময়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব আরো দৃঢ় করাই এই আয়োজনের লক্ষ্য।
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উৎসবটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন থাইল্যান্ড-সৌদি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। এ আয়োজনকে থাইল্যান্ডের জন্য গর্বের মুহূর্ত উল্লেখ করে থাই রাষ্ট্রদূত ডার্ম বুন্থাম বলেন, সৌদি বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ডের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আধুনিক সৃষ্টিশীলতা ভাগ করে নেয়ার এটি একটি দুর্দান্ত সুযোগ। এই অনুষ্ঠান দুই দেশের শক্তিশালী ও ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের প্রতীক।
‘ঐতিহ্যের স্পন্দন, আগামীর স্পন্দন’ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও তাদের উদ্ভাবনী প্রতিভা সৌদি অংশীদারদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। উৎসবে রয়েছে থাইল্যান্ডের স্থানীয় হস্তশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা পণ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, থাই খাবার, থাই সিনেমার প্রদর্শনী, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মুয়ে থাই বক্সিং প্রদর্শনী, থাই ফ্যাশন শো ও ‘খন’ নৃত্য।
‘খন’ একটি ঐতিহ্যবাহী মুখোশধারী নাট্যশিল্প, যেখানে সংগীত, নৃত্য, আচার, সাহিত্য ও হস্তশিল্প মিলিত হয়। এটি ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাতেও রয়েছে। সৌদি নাগরিক, প্রবাসী ও থাইল্যান্ডের বন্ধুদের এ অনন্য উৎসবে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন থাই রাষ্ট্রদূত। থাইল্যান্ডের সরকারি-বেসরকারি খাত আর সৌদি ও থাই কোম্পানিগুলোর সহায়তায় উৎসবটি আয়োজন করেছে সৌদি আরবে অবস্থিত রয়েল থাই দূতাবাস। প্রথম দিনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের সংস্কৃতিমন্ত্রী সুদাওয়ান ওয়াংসুফাকিজকোসোল ও সৌদি আরবের সংস্কৃতিমন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ আল-সৌদ।
থাই দূতাবাসের মতে, এ উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক বিনিময় নয়, বরং অর্থনীতি, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি প্লাটফর্ম। গত তিন বছরে দুদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ গড়ে ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৮০ কোটি ডলার, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটিতে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এছাড়া থাই এয়ারএশিয়া এক্স শিগগিরই রিয়াদ থেকে ব্যাংককের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনা করছে।
উৎসবটি থাইল্যান্ড ও সৌদি আরবের মধ্যে বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে আরো সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।