ফের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ রাশিয়া-ইউক্রেনের আলোচনা

প্রথম দিনের আলোচনার পর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু রাশিয়া ও ইউক্রেন জানিয়েছে, আলোচনাটি ছিল বেশ কঠিন। চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে ভূখণ্ড এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মস্কো ও কিইভের চিন্তাভাবনার মধ্যে এখনো অনেক ফারাক।

কোনো মীমাংসা ছাড়াই শেষ হলো জেনেভায় অনুষ্ঠিত রাশিয়া ও ইউক্রেনের শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় বা শেষ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা এ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক প্রথম দিন গভীর রাত পর্যন্ত চললেও বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা শেষ হয়। খবর বিবিসি।

প্রথম দিনের আলোচনার পর মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু রাশিয়া ও ইউক্রেন জানিয়েছে, আলোচনাটি ছিল বেশ কঠিন। চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধে ভূখণ্ড এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মস্কো ও কিইভের চিন্তাভাবনার মধ্যে এখনো অনেক ফারাক।

তবে ক্রেমলিনের আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি শিগগিরই আরেকটি বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দুই পক্ষের মতের পার্থক্যের কারণে আলোচনা মোটেও সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তবে ইউক্রেনীয় আলোচক রুস্তেম উমেরভ কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় বস্তুনিষ্ঠতা ও গভীরতা ছিল এবং কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সমাধানের জন্যে সব পক্ষের সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন।

আলোচনা শেষ হওয়ার ঠিক আগে জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেন, রাশিয়া ইচ্ছা করেই আলোচনা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। নাহলে এ আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত।

এর আগে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছিল। এর ফলে কয়েক মাস পরই প্রথম বন্দি-বিনিময় সম্ভব হয়। বুধবার আরেকটি বন্দি-বিনিময় হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি।

এদিকে যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার নেতৃত্বদানকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই পক্ষের টানাপড়েন নিয়ে অধৈর্য হয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পার হলেও দুই দেশের দাবি-দাওয়ার মধ্যে পার্থক্য যেন কিছুতেই কমছে না। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় রাশিয়া। তবে এ দাবি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে কিয়েভ।

কারণ দাবি মানলে ইউক্রেনের সার্বভৌম ভূখণ্ড, বেশ কিছু কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত শহর এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলের দীর্ঘ প্রতিরক্ষারেখা রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেয়া হবে। এতে রাশিয়ার জন্য সামনে ইউক্রেনে পুনরায় সামরিক আগ্রাসন চালানো সহজ হবে। মঙ্গলবার জেলেনস্কি বলেন, ডনবাস হস্তান্তরের কোনো পরিকল্পনা যদি গণভোটে দেয়া হয়, তবে ইউক্রেনীয়রা তা প্রত্যাখ্যান করবে।

এ শান্তি আলোচনার আরেকটি বড় বাধা হলো জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ইউরোপের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২২ সালের মার্চ থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইউক্রেন চায়, রাশিয়া এটি ফিরিয়ে দিক। জেলেনস্কি এর আগে বলেছিলেন, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ ভাগ করে নিতে পারে। তবে এ ব্যবস্থায় মস্কোর রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আরও