যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪ সালে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোরালো তৎপরতা। এরই অংশ হিসেবে টেক্সাসের ওয়াকোতে সম্প্রতি প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের সমালোচনাও করেছেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্স।
প্রথম নির্বাচনী প্রচারণায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দল রিপাবলিকান পার্টির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী রন ডিস্যান্টিসেরও কঠোর সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনা অপরাধমূলক তদন্তের জন্য প্রসিকিউটরদের এক হাত নেন ট্রাম্প।
এদিন কয়েক হাজার কট্টর সমর্থকদের সামনে প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন অভিযোগ চাপানো হয়েছে। আমি পরিস্থিতির শিকার।’
রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের অভিযোগ, ডেমোক্রেটিক নেতা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমানোর উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে এসব মামলা পরিচালনা করছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে অস্ত্র হিসেবে আইন প্রয়োগকে ব্যবহার করছেন। প্রথম থেকেই এটা ছিল বানোয়াট ও একের পর এক মিথ্যা তদন্ত।’
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মোটাদাগে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলমান। প্রথম অভিযোগ তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে প্রাপ্তবয়স্ক সিনেমার এক অভিনেত্রীর মুখ বন্ধ করতে নির্বাচনী তহবিল থেকে টাকা দিয়েছেন। এর পরে দ্বিতীয় অভিযোগ, মার্কিন শীর্ষ গোপনীয় নথি অবৈধভাবে নিজের অফিস বা বাসভবনে রেখেছেন। তৃতীয় অভিযোগ, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বানচাল করতে মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে সমর্থকদের মাধ্যমে হামলা করিয়েছেন। এছাড়া জর্জিয়ার প্রসিকিউটররাও ২০২০ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য আরেক দফা অভিযোগের তদন্ত করছেন। যদিও এসব অভিযোগ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন তিনি।
ট্রাম্প ওয়াকোতে প্রচারণার জন্য এমন একটি সময় বেছে নিয়েছেন, যখন শহরটি স্থানীয় এক ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর সরকারি সংস্থার নৃশংস অভিযানের ৩০তম বার্ষিকী উদযাপন করছিল। ওই অভিযানে চারজন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাসহ ৮৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিল। সমালোচকরা অভিযানটিকে সরকারি বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি এই দিনে ট্রাম্পের সমর্থকদের র্যালিকে দিবসটির প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রচারাভিযানের এক মুখপাত্র বলেন, ‘২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম বড় সমাবেশ হিসেবে ওয়াকোকে বেছে নেয়া হয়েছে। এর কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট যা বলতে চেয়েছিলেন তার জন্য এ শহরটিই উপযুক্ত। পাশাপাশি শহরটি বেশ কয়েকটি প্রধান জনবহুল এলাকার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। বড় ইভেন্ট আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামোও এখানে আছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প শুধু আইনি ঝুঁকির মুখোমুখি নন, বরং রিপাবলিকান নেতাদের সমর্থন আদায়ে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কেননা এসব ঘটনায় ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অনেক রিপাবলিকান নেতাই তার সমালোচনা করেছেন।
এসব সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম ট্রাম্পের এক সময়ের মিত্র সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। ক্যাপিটল হিলের ঘটনায় তিনি সরাসরি ট্রাম্পের দিকে আঙুল তুলেছেন।