দিল্লির বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনে নিহত অন্তত ২১

নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যারা মূলত চিকিৎসার জন্য অথবা চিকিৎসাধীন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গী হিসেবে ভারতে এসেছিলেন

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগর এলাকার একটি বহুতল ভবনে লাগা আগুনে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশী রয়েছেন, যারা মূলত চিকিৎসার জন্য অথবা চিকিৎসাধীন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গী হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। হতাহতদের মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিকও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, যে বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে, সেটি একটি বেসরকারি হাসপাতালের কাছে অবস্থিত। ভবনটি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের থাকার জন্য ‘বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট’ সুবিধা বা আবাসন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় ভবনে ঠিক কতজন ছিলেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা এ কে মালিক জানিয়েছেন, আগুন বেশ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে পুরো ভবন তল্লাশি করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।

এদিকে দিল্লির মন্ত্রী আশিশ সুদ জানিয়েছেন, ভবনটির ‘বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট’ হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। কোনো ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন বা অবহেলার প্রমাণ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ রুপি ও আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ওপরের তলার বাসিন্দারা ভেতরে আটকা পড়েন। জীবন বাঁচাতে মানুষ দ্বিতীয় ও তৃতীয় তরা থেকে লাফিয়ে পড়তে শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবনের বাইরেআগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

স্থানীয় আইনপ্রণেতা সতীশ উপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভবনটিতে থাকা বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন।

আরও