দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশন ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। এরই জেরে কূটনৈতিকভাবে কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। খবর রয়টার্স।
এ সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। একইসঙ্গে ১৮৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ঐতিহাসিক মিশনের কূটনীতিকদের দেয়া সব সুযোগ-সুবিধাও ৩০ দিন পর বাতিল করা হবে।
একই সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আরো একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে নিয়োজিত ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও রামাল্লায় কর্মরত যুক্তরাজ্যের কূটনীতিকদের মাত্র সাত দিনের মধ্যে ইসরায়েল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে যুক্তরাজ্যের প্রশিক্ষণ দেয়ার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি ১২ ব্রিটিশ সংসদ সদস্য এবং লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরোমি করবিনসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির ইসরায়েলে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের এ সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করলেও এটি একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না বলে জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা রোধে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। এর আগে যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পাশাপাশি সেসব বসতিতে অর্থায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়। ফ্রান্স ও কানাডা অনুরূপ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ডেনমার্ক ও পর্তুগালের মতো আরো নয়টি দেশ যুক্তরাজ্যের এ কার্যক্রমকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার যুক্তরাজ্যের এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাজ্য তাদের আসন্ন নির্বাচনের আগে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে দ্রুত বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিল। এ নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েল আরো আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ল।