ভোট লুট হয়েছে দাবি করে মমতা বললেন ‘রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব’

দলের হারে পদত্যাগ করবেন কিনা এমন প্রসঙ্গে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে ভোট লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফলাফলকে পরাজয় হিসেবে মানছেন না তিনি। এছাড়া বিজেপিবিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গতকাল বিকালে কলকাতার কালীঘাটের বাড়ি থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ ইঙ্গিত দেন তিনি।

মমতা বলেন, ‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ। সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’

তিনি জানান, বিজেপিবিরোধী ইন্ডিয়া জোট-এর নেতারা তাকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘জোট আগামী দিনে আরো শক্তিশালী হবে। অখিলেশ আজ আসতে চেয়েছিল। আমি কাল আসতে বলেছি। একে একে সকলেই আসবেন। জোট শক্তিশালী করব।’

সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, এবং হেমন্ত সোরেন ফোন করে তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পদত্যাগ করবেন কিনা এমন প্রসঙ্গে মমতা স্পষ্ট বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।’

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কঠোরভাবে সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে। সব অফিসারদের বদলে দেয়। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট, বিচারব্যবস্থা নেই, কেন্দ্রীয় সরকার এক দলের শাসন চায়, তখন গণতন্ত্র কোথায় যাবে?’

গণনার দিন সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘গণনার শুরুর পর সংবাদমাধ্যমে বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পেয়ে গিয়েছে দেখানোর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়। বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। ১৩ হাজার ভোটে আমি লিড করছিলাম। ৩২ হাজারের বেশি পাওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকেছে। সব ভেঙে দিয়েছে। এটা শুনেই আমি গেলাম। জগুবাজারের কাছে আমার গাড়ি আটকাল। বলল যেতে দেবে না। লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।’

আরও