ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে চীনের জন্মহার

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তা, সন্তান লালনের উচ্চ ব্যয় ও পরিবারে নারীদের ওপর অসম দায়িত্বের চাপ জন্মহার বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে আছে।

ইতিহাসের সর্বনিম্ন জন্মহার রেকর্ড করেছে চীন। ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো দেশটির জনসংখ্যা কমেছে। যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আভাস দিচ্ছে। খবর সিএনএন।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি এক হাজার জনে জন্মহার নেমে এসেছে মাত্র ৫ দশমিক ৬৩-এ। এটি ২০২৩ সালের আগের সর্বনিম্ন হারকেও ছাড়িয়ে গেছে।

দেশটিতে গেল বছর মাত্র ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষের। একবছরে দেশটির জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার কমে বর্তমানে ১৪০ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। দেশটির ষাটোর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৩ শতাংশ। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনের অর্ধেক মানুষের বয়স হবে ষাট বছরের বেশি।

একই সঙ্গে প্রকাশিত অর্থনৈতিক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে চীনের অর্থনীতি ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। যা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মিল রয়েছে। এ প্রবৃদ্ধির বড় ভরসা ছিল রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য টানাপোড়েের মধ্যে দেশটি রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে।

জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রধান কাং ই দাবি করেন, দ্রুত বদলে যাওয়া বৈশ্বিক পরিবেশ ও অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যেও অর্থনীতি ‘উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা’ ধরে রাখতে পেরেছে।

অর্থনৈতিক সাফল্যের এই চিত্রের আড়ালে জন্মহার কমার খবর বেইজিংয়ের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তা, সন্তান লালনের উচ্চ ব্যয় ও পরিবারে নারীদের ওপর অসম দায়িত্বের চাপ জন্মহার বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে আছে।

আরও