হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে ট্রাম্পের সাহায্য ঘোষণার পর ট্যাংকার আক্রান্ত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরাহ থেকে ৭৮ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে

উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা শুরু করবে— প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই হরমুজ প্রণালিতে ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতের শিকার হয় একটি ট্যাংকার। ওই ঘটনায় সব নাবিক নিরাপদে আছেন। খবর রয়টার্স।

ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরাহ থেকে ৭৮ নটিক্যাল মাইল উত্তরে একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ ও তাদের নাবিকদের সহায়তায় মার্কিন পরিকল্পনা সম্পর্কে খুব বেশি বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, সোমবার থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে, যাতে ‘আটকে থাকা’ জাহাজগুলো নিরাপদে বের হতে পারে এবং খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেশগুলোকে জানিয়েছি তাদের জাহাজগুলোকে নিরাপদে সংকুচিত এ জলপথ থেকে বের করে আনতে পথনির্দেশনা দেব, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।’

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের তথ্যানুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক প্রণালিটি অতিক্রম করতে পারছে না।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এ অভিযানে তারা ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন ব্যবহার করবে। এর লক্ষ্য হলো এ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সমর্থন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, একইসঙ্গে আমরা নৌ অবরোধ বজায় রাখছি।’

দুই মাসের বেশি সময় ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের জাহাজ ছাড়া প্রায় সব জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে ইরান, ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। কিছু জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে গুলিবর্ষণের অভিযোগও এসেছে, এবং কয়েকটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দর থেকে আসা জাহাজের ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে।

ট্রাম্প প্রশাসন প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনে অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়ে আসছে। সেন্টকম বলেছে, নতুন উদ্যোগে ‘কূটনৈতিক পদক্ষেপ ও সামরিক সমন্বয়’ একসঙ্গে কাজ করবে।

তবে এ মার্কিন অভিযানে অন্য কোন দেশ অংশ নেবে বা কীভাবে এটি বাস্তবায়িত হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা ‘কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।’

আরও