উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা

অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন মোকিয়ার, আগিয়ো ও হাউইট

জন হাসলার বলেন, বিজয়ীরা আমাদের শিখিয়েছেন যে, টেকসই প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে ঘটে না। মানব ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ই অর্থনৈতিক স্থবিরতা ছিল সাধারণ নিয়ম। তাদের কাজ দেখিয়েছে যে, অব্যাহত প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে এর সম্ভাব্য হুমকিগুলো সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে এবং সেগুলোর মোকাবেলা করতে হবে।

উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারণা ব্যাখ্যা করার জন্য ২০২৫ সালের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে পেলেন তিন অর্থনীতিবিদ—যুক্তরাষ্ট্রের জোয়েল মোকিয়ার, ফ্রান্সের ফিলিপ আগিয়ো এবং কানাডীয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের পিটার হাউইট।

সোমবার দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এই পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি 'আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে সুইডিশ রিক্সব্যাংক পুরস্কার' নামে পরিচিত। এ বছরের পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার)।

নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিজয়ীরা উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাখ্যা করেছেন। কমিটির সদস্য জন হাসলার বলেন, এই তিনজন আমাদের দেখিয়েছেন যে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কখনোই স্বাভাবিকভাবে ঘটে না; বরং উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই এটি টিকে থাকে। মানব ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ই অর্থনৈতিক স্থবিরতা ছিল সাধারণ নিয়ম। তাদের কাজ দেখিয়েছে যে, অব্যাহত প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে এর সম্ভাব্য হুমকিগুলো সম্পর্কে আমাদের সচেতন থাকতে হবে এবং সেগুলোর মোকাবেলা করতে হবে।

এ পুরস্কারের অর্ধেক পাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোয়েল মোকিয়ার, আর বাকি অর্ধেক ভাগাভাগি করবেন ফ্রান্সের কলেজ দ্য ফ্রান্স ও ইনসিয়াডের অধ্যাপক ফিলিপ আগিয়ো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার হাউইট।

জোয়েল মোকিয়ার ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে সেইসব কারণ চিহ্নিত করেছেন যা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ভিত্তিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। নোবেল কমিটির মতে, জোয়েল মোকিয়ার দেখিয়েছেন—উদ্ভাবনগুলো যদি একের পর এক চলমানভাবে সফল হতে চায়, তবে শুধু কী কাজ করছে তা জানলেই হবে না; কেন কাজ করছে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও থাকতে হবে।

অন্যদিকে, ফিলিপ আগিয়ো ও পিটার হাউইট যৌথভাবে 'ক্রিয়েটিভ ডেস্ট্রাকশন' এর গাণিতিক মডেল তৈরি করেছেন। এটি হলো এমন এক অন্তহীন প্রক্রিয়া, যেখানে বাজারে নতুন এবং উন্নত পণ্য আসার ফলে পুরনো ও কম কার্যকর পণ্যগুলো প্রতিস্থাপিত বা বিলীন হয়ে যায়। অর্থনীতিতে তত্ত্বটি নতুনভাবে ব্যাখ্যাও করেছেন তারা। এ ধারণা অনুযায়ী, নতুন ও উন্নত উদ্ভাবন পুরোনো প্রযুক্তি ও ব্যবসাকে প্রতিস্থাপন করে— যা অর্থনীতিতে একটানা পরিবর্তন ও উন্নতির ধারা সৃষ্টি করে। তত্ত্বটি প্রথম জনপ্রিয় করেছিলেন অর্থনীতিবিদ জোসেফ শুমপিটার, তার ১৯৪২ সালের বিখ্যাত বই ‘ক্যাপিটালিজম, সোশ্যালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’তে।

পুরস্কার ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিপ আগিয়ো বলেন, ‘আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না আমার অনুভূতি প্রকাশের জন্য। আমি বিস্মিত।‘ তিনি আরো জানান, তার পুরস্কারের অর্থ নিজের গবেষণাগারে বিনিয়োগ করবেন।

এ বছরের অর্থনীতিতে নোবেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য এবং শান্তির সব পুরস্কার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো।

আরও