অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে চুক্তিতে আনতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে একই সঙ্গে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যৌথভাবে শুরু করা যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যকর হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা ‘ইতিবাচক ও চলমান’ এবং চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তারা আশাবাদী। তবে ৮ এপ্রিল হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধ করেনি।
ছবি: রয়টার্স
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি তেল কিনলে অন্যান্য দেশগুলোর ওপরও ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ আরোপ করা হতে পারে। এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করতে সতর্কবার্তা পেয়েছে দুটি চীনা ব্যাংক।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির তেহরান সফর করে দুই পক্ষের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে ইরানি বন্দরগামী জাহাজ আটকে দেয়া হচ্ছে, যদিও ইরান দাবি করেছে একটি সুপারট্যাংকার এরই মধ্যে অবরোধ ভেঙেছে।
আলোচনায় প্রধান বাধা হয়ে আছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের জন্য স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও ইরান ৩-৫ বছরের প্রস্তাব দিয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত।
সূত্র: রয়টার্স