ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্রাভলিনস পানি পাম্পিং স্টেশনে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ঢুকে পড়ায় চারটি রিয়্যাক্টর ইউনিট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ফরাসি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিতে দ্য ফ্রঁস (ইডিএফ) সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা।
রোববার রাতে ইংলিশ চ্যানেল উপকূলে অবস্থিত এই কেন্দ্রের তিনটি রিয়্যাক্টর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর সোমবার সকালে চতুর্থ রিয়্যাক্টরও বন্ধ করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্মী বা পরিবেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
ইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, পাম্পিং স্টেশনের ফিল্টার ড্রামে বিপুল ও অপ্রত্যাশিত সংখ্যায় জেলিফিশ ঢুকে পড়ায় এই রিয়্যাক্টরগুলো বন্ধ করা হয়েছে।
উত্তর ফ্রান্সের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উত্তর সাগরের সঙ্গে যুক্ত একটি খাল থেকে ঠাণ্ডা পানি পায়। ইডিএফ জানিয়েছে, সাইটটি নিরাপদভাবে পুনরায় চালু করতে পরিদর্শন কাজ চলছে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে রিয়্যাক্টরগুলো পুনরায় চালু হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের জেলিফিশের ঝাঁকের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সমস্যা এড়াতে নতুন উপায় খুঁজছেন। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনা হলো ড্রোন ব্যবহার করে জেলিফিশের চলাচল মানচিত্রে চিহ্নিত করা, যাতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রাভলিনসের আশপাশের সৈকতে জেলিফিশের সংখ্যা বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, উষ্ণতর সমুদ্রের পানি ও আক্রমণাত্মক প্রজাতির বিস্তার হওয়াকে। ২০২০ সালে উত্তর সাগরে প্রথমবার দেখা যায় এশিয়ান মুন জেলিফিশ। প্রজাতিটি আগে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। স্থির পানিতে প্রাণীজ প্ল্যাঙ্কটনের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে। ফলে চীন, জাপান ও ভারতের বন্দর ও পারমাণবিক কেন্দ্রে একই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
কোন প্রজাতির জেলিফিশ এবার সমস্যার কারণ হয়েছে সে ব্যাপারে ইডিএফ এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি বিরল হলেও এর আগে ১৯৯০-এর দশকে জেলিফিশ ইডিএফের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল। অন্য দেশেও এমন ঘটনা ঘটেছে—যেমন ২০১৩ সালে সুইডেনে তিন দিনের জন্য কেন্দ্র বন্ধ ছিল। আর ১৯৯৯ সালে বড় পতন ঘটেছিল জাপানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন জেলিফিশ বৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছে। উষ্ণ পানিতে এদের প্রজনন দ্রুত হয় এবং ট্যাংকার জাহাজের ব্যালাস্ট পানির মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইডিএফ জানিয়েছে, রিয়্যাক্টরগুলো বন্ধ হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না, কারণ সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি উৎস কার্যকর রয়েছে।