রাশিয়া নিয়ে ‘ভুল ধারণা’, এবার বিশ্ব মানচিত্র বদলাতে চায় জাপান

নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়াল আর্থ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন’ নামে পরিচিত। জাপান জাতিসংঘের ১৬৪ সদস্যের মধ্যে অন্যতম, যারা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে এখন মানচিত্রটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে দেশটি। কারণ এতে জাপানে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ নামে পরিচিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে রাশিয়ার মতো একই রঙে দেখানো হয়েছে

জাতিসংঘ (ইউএন) গৃহীত নতুন একটি বিশ্ব মানচিত্র সংশোধনের দাবি জানিয়েছে জাপান। দেশটির অভিযোগ, নতুন মানচিত্রে বিরোধপূর্ণ কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গত সপ্তাহে নতুন মানচিত্রটি গ্রহণের পক্ষে ভোট দেয়। নতুন এই মানচিত্রে আফ্রিকা মহাদেশকে তুলনামূলক বড় করে দেখানো হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে ছোট করে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও নিন্দা জানিয়েছে।

নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়াল আর্থ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন’ নামে পরিচিত। জাপান জাতিসংঘের ১৬৪ সদস্যের মধ্যে অন্যতম, যারা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে এখন মানচিত্রটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে দেশটি। কারণ এতে জাপানে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ নামে পরিচিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জকে রাশিয়ার মতো একই রঙে দেখানো হয়েছে।

ইউক্রেনও গত সপ্তাহে মানচিত্রটি নিয়ে জাতিসংঘের ভোটে বিরত ছিল। নতুন মানচিত্রে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের বাকি অংশ থেকে ভিন্ন রঙে দেখানো হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘে সতর্ক করে বলেছেন, এটি ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিতে পারে এবং জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে।

জাপান সরকারের মুখপাত্র মিনোরু কিহারা গতকাল বলেন, নতুন মানচিত্রে ‘জাপান সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি চিত্রায়ন’ রয়েছে।

সাংবাদিকদের কিহারা বলেন, ‘এই চিত্রায়ন সংশোধনের দাবি জানিয়ে আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে মানচিত্র সাইটটির পরিচালনাকারীর কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ড ও ভৌগোলিক নাম নিয়ে ভুল ধারণা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হবে।’

১৯৪৫ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলো দখল করে নেয়। এরপর সেখানকার জাপানিদের বিতাড়িত করা হয়।

গত মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলোয় আকস্মিক সফর করায় টোকিও ও মস্কোর সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে ওঠে।

এরপর দ্রুত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জাপান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, পুতিনের এই সফর ‘জাপানি জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে’। তিনি আরো বলেন, এটি ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।

তাকাইচি বলেন, দ্বীপগুলো ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনেও জাপানের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ’।

এর জবাবে মস্কো দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য তারা ‘দৃঢ়ভাবে’ প্রত্যাখ্যান করে। মস্কোর ভাষায়, এসব বক্তব্য ‘রাজনৈতিকভাবে অনুপযুক্ত, অপমানজনক এবং অবশ্যই আইনগত ভিত্তিহীন’।

জাতিসংঘ বলেছে, নতুন মানচিত্রের উদ্দেশ্য হলো প্রচলিত মারকেটর প্রজেকশনের তুলনায় মহাদেশগুলোর স্থলভাগকে ‘আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা’।

আরও