স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হওয়ার ছয় দিন পর পদত্যাগ করেছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ওস্কার পুয়েন্তে। গত ২৮ অক্টোবর রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে উরদা শহরের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি।
দেশটির পার্লামেন্টে দুর্ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দেয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন পুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মতো একটি দেশের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এত বড় দুটি দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা সম্ভব নয়।’
গত জানুয়ারিতে একই রেলপথে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।
গত সপ্তাহের দুর্ঘটনাটি ইউরোপের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালের পর এটি স্পেনে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।
পার্লামেন্টে দীর্ঘ অধিবেশনে রেলপথের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন পুয়েন্তে। এসময় বিরোধী দলগুলোর তীব্র প্রশ্নের মুখেও পড়েন তিনি। অধিবেশন শেষে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এই মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু পরিবহনমন্ত্রীর পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছি না, আগাম আইনসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করছি।’
গত ২৮ অক্টোবরের দুর্ঘটনার পর থেকেই পুয়েন্তের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
প্রধান বিরোধী দল রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (পিপি) এবং কট্টর ডানপন্থী দল ভক্স তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। এমনকি সরকারের কয়েকটি মিত্র দলও একই দাবি জানায়।
তাদের বক্তব্য, দেশের দ্রুতগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে স্পেনের মানুষের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায় পরিবহনমন্ত্রীকে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও রেলব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ‘ভেঙে পড়েছে’ বলে স্বীকার করেছেন।
বিরোধীরা আরো অভিযোগ করে, দুর্ঘটনার জন্য চালকের ভুলকে দায়ী করে পুয়েন্তে নিজের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
তবে কয়েক দিন আগেও দায়িত্বে বহাল থাকার কথা বলেছিলেন এই মন্ত্রী। ফলে তার পদত্যাগের ঘোষণা অনেককেই বিস্মিত করেছে।
দুর্ঘটনা ও পুয়েন্তের পদত্যাগ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন স্পেনে আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই দুর্ঘটনা ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য বড় ধরনের নির্বাচনী ধাক্কা। তাদের ধারণা, জনমত জরিপের বিপরীতে গিয়ে নির্বাচনে জয় পাওয়া প্রধানমন্ত্রী সানচেজের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
পদত্যাগ করা না করা নিয়ে পুয়েন্তে ও প্রধানমন্ত্রীর সামনে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। দুর্ঘটনার পর পদত্যাগ না করলে তা নিহত ব্যক্তিদের প্রতি সংবেদনহীনতা হিসেবে দেখা হতে পারত। অন্যদিকে পদত্যাগ করলে দুর্ঘটনার দায় নিজের ও সরকারের বলে স্বীকার করে নেওয়ার বার্তা যেতে পারত।
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় পথটিই বেছে নেন পুয়েন্তে। তিনি জানান, ‘রাজনৈতিক মর্যাদাবোধ’ থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সহকর্মীর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। তিনি বলেন, পুয়েন্তে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এরপর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।