১২ দিন পর যুদ্ধবিরতি, লড়াই করে টিকে গেল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তাক্ত দাবার ছকে গত এক সপ্তাহজুড়ে যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটেছে, ঘাঁটি জ্বলেছে আর আন্তর্জাতিক সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়েছে—তা শুধু যুদ্ধ নয়, বরং এক ভয়ংকর কৌশলগত প্রতিযোগিতা।

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তাক্ত দাবার ছকে গত এক সপ্তাহজুড়ে যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটেছে, ঘাঁটি জ্বলেছে আর আন্তর্জাতিক সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়েছে—তা শুধু যুদ্ধ নয়, বরং এক ভয়ংকর কৌশলগত প্রতিযোগিতা। এখন তেহরান আর তেলআবিবের আকাশে আগুনের গোলা ধীরে ধীরে সরছে, সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরায়েল—তিন পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। ইরান আঘাত পেয়েছে প্রবলভাবে, কিন্তু ভেঙে পড়েনি। ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়েছে নিখুঁত নিশানায়, তবু শেষান্তে কূটনৈতিক চাপের মুখে। বলা হচ্ছে ইরানে একরকম ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল। চাপের মুখে পড়েই বাধ্য হয়েছে যুদ্ধবিরতিতে। আর যুক্তরাষ্ট্র? বরাবরের মতোই শুরুতে মধ্যস্থতাকারী, মাঝে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার আর শেষে শান্তির বার্তাবাহক। সার্বিকভাবে এ যুদ্ধে দৃশ্যত লড়াই করে টিকে গেল ইরান। ১২ দিনের লড়াইয়ে বার্তা দিয়েছে প্রবল শক্তিশালী আক্রমণের মুখে টিকে থাকতে পারে তারা। লড়াই চালিয়ে গেছে মাথা নত না করেই। ইরানের জন্য বড় স্বস্তির জায়গা আছে আরেকটি। পাশ্চাত্য শক্তিগুলো স্বীকার করেছে, ইরানের ৪০০ কেজির ইউরেনিয়াম মজুদ অক্ষত রয়েছে। পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরও তারা জানেন না ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ কোথায় রয়েছে? পরমাণু স্থাপনার ক্ষতি হলেও তাদের পরমাণু কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে সে দাবি করতে পারছে না কেউই, যা ইঙ্গিত দেয় ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

জয়ের গল্প আর ক্ষতির হিসাব: বলা হয়, ইতিহাস বিজয়ীদের লেখা—কিন্তু এ যুদ্ধের শেষে প্রত্যেকেই যেন কলম হাতে দাঁড়িয়ে, নিজ নিজ বিজয়ের গল্প লিখছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা কোনো মার্কিন প্রাণ হারানো ছাড়াই একটি পারমাণবিক হুমকি নিষ্ক্রিয় করেছে। ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে এবং তাতে ইরান ‘নরম’ হয়েছে। আর ইরান বলছে, তারা টিকে আছে, প্রতিশোধ নিয়েছে—যদিও সেই প্রতিশোধ ছিল সংযত, প্রতীকী। তবে এ শান্তিপূর্ণ রূপাবরণ ছিল এক ভয়ংকর নাচের মুখোশ, যেখানে একটিমাত্র ভুল কদম থেকেই শুরু হতে পারত এক বিস্ফোরক আঞ্চলিক যুদ্ধ, এমনকি উঁকি দিয়েছিল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কাও।

পরিস্থিতি এমন যে তিনটি রাষ্ট্রই দাবি করছে, ‘আমরা জয়ী হয়েছি’। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা চূর্ণ করে দিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তবে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পরও ট্রাম্প প্রতিশোধ না নিয়ে উল্টো বলেন, ‘ধন্যবাদ ইরান, আগাম জানিয়ে দেয়ার জন্য।’

ইসরায়েলও চুপ নেই। তারা বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও বলছে, তারা মাথা নত করেনি। তাদের বক্তব্য, তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয়েছে, লড়েছে এবং নিজেদের শর্তে যুদ্ধ থামিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আগাম বার্তা দিয়েই কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটে। এটা ছিল এক ধরনের ‘কৌশলগত প্রতিরোধ’, যা ক্ষতি না করেও নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। এ হামলার পর দৃশ্যত বিজয়ী ইরান।

আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক প্রজেক্ট ডিরেক্টর সিনিয়র অ্যাডভাইজার আলি ভায়েজ এক কথায় বলেন, ‘এখন প্রত্যেক পক্ষেরই একটা জয়ের গল্প আছে। আবার কেউই এমন কিছু করেনি যাতে পুরো অঞ্চল যুদ্ধের দিকে গড়িয়ে পড়ে।’ তবে বাস্তব ক্ষতিগুলো ঢাকতে এ ‘জয়গাথা’ যথেষ্ট নয়। তেহরানে স্বাভাবিক জীবন থেমে গেছে, নিহত ছয় শতাধিক। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন, অর্থনীতি চরম চাপের মুখে। শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী, জেনারেলরাও নিহত হয়েছে। ইসরায়েলে নিহত হয়েছে ৩০ জনের বেশি। শতাধিক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। সঙ্গে ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে যে অংক আরো বাড়বে। অতএব, ‘কে জিতেছে’—এ প্রশ্নের উত্তর যেই দিকেই হোক না কেন, বাস্তবতা বলছে, জয় কোনো পক্ষেরই নিরঙ্কুশ নয় এবং মূল্য সবারই দিতে হচ্ছে। স্পষ্টত ইরান কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে, কারণ ১২ দিনের যুদ্ধে তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি লক্ষ্য।

বাধ্য হয়েই যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের সম্মতি: বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন একপ্রকার বাধ্য হয়েই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে ইসরায়েল। রাজনীতি বিশ্লেষক ও রাইখম্যান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, ‘ইরানে অভিযান শেষে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা সব লক্ষ্য অর্জন করেছে—এটি একেবারেই হাস্যকর। গত এক সপ্তাহে আমরা শুনেছি, তারা কখনো বলছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মূলোৎপাটন, কখনো বলছে শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু এর কোনোটাই পূরণ হয়নি। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কিছুটা ক্ষতি হলেও তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আদৌ ধ্বংস হয়েছে কিনা, তা একেবারেই অনিশ্চিত।’

ওরি গোল্ডবার্গের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরায়েল এ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে মূলত ইরানের পাল্টা হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বাভাসযোগ্য চাপের কারণে। তার মতে, ‘নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ভরসা করে ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ট্রাম্প পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাই এখন নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।’

১৩ জুন থেকে ১২ দিনের রণাঙ্গন: যুদ্ধের শুরুটা ১৩ জুন। ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা পরমাণু বিজ্ঞানী ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে। এরপর টানা ১২ দিন চলেছে হামলা-পাল্টা হামলা। ক্ষেপণাস্ত্রে কাঁপে তেহরান, আরা, নাতাঞ্জ, ফোর্দো, কাশান, তাবরিজ, করাজ, খন্দাব, তেলআবিব, হোলন, বিরশেবা, হাইফা, জেরুজালেম। বেসামরিক মানুষের মৃত্যু আর আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা। এরই মধ্যে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় চলে যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন মিডনাইট হ্যামার। জবাবে কাতার ও ইরাকের মার্কিন স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিস্তৃত যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। কিন্তু উত্তেজনার পারদ নামে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার ‘হেড স্পিন ডিপ্লোম্যাসি’তে। নাটকীয় ঘোষণা আসে ট্রাম্পের ঘোষণায় ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’র।

আড়ালে ঘটছে যুগান্তকারী পরিবর্তন: যখন বিশ্বব্যাপী আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ, তখন এর আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে ঘটছে আরো গভীর ও যুগান্তকারী একটি রূপান্তর। ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হামলার পেছনে জেগে উঠছে এক নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। দুটি বিশ্বযুদ্ধের পর যে আঞ্চলিক শৃঙ্খলা ও শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা এখন ভেঙে পড়ছে। প্রকৃতপক্ষে, প্রশ্ন এখন আর এই নয় যে সেই পুরনো শৃঙ্খলা টিকে থাকবে কিনা; বরং প্রশ্ন হলো, তার জায়গায় কেমন একটি নতুন শৃঙ্খলা গড়ে উঠবে। পুরনো ব্যবস্থায় পশ্চিমা শক্তির প্রত্যক্ষ প্রভাব, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের নিরাপত্তানির্ভরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বিভাজিত কিন্তু নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হিসেবে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গিয়েছিল। এখন সেই কাঠামো ভেঙে দিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী নতুন শক্তি উঠে আসছে—যেমন ইসরায়েল, তুরস্ক, সৌদি আরব এমনকি ইরান নিজেও। যারা নিজের মতো করে আঞ্চলিক প্রভাব বলয় গড়ে তোলার সন্ধিক্ষণে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি যুদ্ধ জড়াচ্ছে না সবসময়। কখনো পেছনের পর্দায় কূটনৈতিকভাবে কিংবা সামরিকভাবে ন্যূনতম ব্যয়ে লাভবান হওয়ার কৌশল নিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন তাদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

১৯৬৭ ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা: ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল তার সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য অর্জন করেছিল। মাত্র ছয়দিনের মধ্যে, নবীন ইহুদি রাষ্ট্র একসঙ্গে কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনী পরাস্ত করে নিজেদের থেকে অনেক বড় এলাকা দখল করে নেয়। এবার আরো শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা নিয়েই যুদ্ধের ময়দানে নামে তেলআবিব। যদিও তারা বুঝে গেছে, ময়দান এখন আগের মতো মসৃণ নয়। সামরিক লক্ষ্য পরিত্যাগ করতে হলো কিংবা বলা যায় অন্তত স্থগিত রাখতে হলো। ইরানি শাসন পরিবর্তনের উচ্চবাচ্যও স্তিমিত।

সুবিধাজনক অবস্থানে ট্রাম্পও: সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন ট্রাম্পও। ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছেন। জবাবে ইরান কাতারে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ঠিকই কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি প্রায় শূন্য। শেষ মুহূর্তে শান্তির দূত হিসেবে ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করে ধরে রেখেছেন তার যুদ্ধবিরোধী ভাবমূর্তিও।

কিছুটা ব্যাকফুটে ইসরায়েল: ইসরায়েল ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সাফল্যের দাবি জানালেও শেষ মুহূর্তে কিছু অস্বস্তি থেকে গেল ট্রাম্পের ‘ধমকে’। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা চালিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য হজম করা কঠিনই হওয়ার কথা। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে হেগে রওনা হওয়ার আগে গতকাল ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল ও ইরান। আর এতে তিনি দুই দেশের ওপরই অসন্তুষ্ট, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন ইসরায়েলের ওপর। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর পরই ইসরায়েল পুরোপুরি হামলা শুরু করে দেয়। এরপর ট্রুথ সোশ্যালে অনেকটা ধমকের সুরেই বলেছেন, ‘ইসরায়েল, বোমা ফেলা একদম বন্ধ করুন। যদি আপনারা এটা বন্ধ না করেন, তাহলে তা হবে যুদ্ধবিরতির গুরুতর লঙ্ঘন। এখনই এ মুহূর্তে নিজেদের পাইলটদের ফিরিয়ে আনুন।’ এ বিষয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এর পরই তেলআবিব ঘোষণা দেয় ওই ফোনালাপের পর আর কোনো হামলা চালায়নি ইসরায়েল। ইসরায়েল তার সামরিক সাফল্য ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে এটি একটি ভিন্ন বার্তা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তখন ইসরায়েলের অতিরিক্ত আগ্রাসন তাকে ‘অতিরিক্ত উগ্রতা’ ও ‘অস্থিতিশীলতা’র দায়ে অভিযুক্ত করে তুলেছে। এ অবস্থায় ইসরায়েলের সামরিক কৌশল যতটা সফল হয়েছে, রাজনৈতিকভাবে ততটাই চাপে পড়েছে তেলআবিব। যুদ্ধের ময়দানে জেতা আর কূটনীতির ময়দানে স্থির থাকা—দুটোর ভারসাম্য রাখা যে সহজ নয়, তা বুঝিয়ে দিল এ পর্ব।

অনিশ্চয়তা কাটেনি: ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একে ‘কমপ্লিট অ্যান্ড টোটাল সিজফায়ার’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতির বাস্তব শর্তাবলি কিংবা তেহরান ও তেলআবিব ঠিক কী নিয়ে একমত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আরো উদ্বেগের বিষয়—এ যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে—কোনো টাইমলাইন নেই?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সত্যিকারের শান্তি অর্জনের জন্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রভাবশালী মিত্র মিলিশিয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন আলোচনা এখনো বাকি। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেনিস রসের কথায়, পরিস্থিতি এখনো জটিল। ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে? সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের যে মজুদ রয়েছে, তার পরিণতি কী? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া সহসাই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে। এ পথ কোথায় যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সত্য হচ্ছে, এ যুদ্ধের শেষে কেউ আত্মসমর্পণ করেনি, আবার কেউই পুরোপুরি নিরাপদে বেরিয়ে আসেনি।

আরও