জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি সেবার মান কমে যাওয়া এবং শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে আগামীকাল শনিবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দেশটির প্রধান ছাত্র সংগঠন ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস অব ফ্রান্স (ইউএনইএফ)’। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, উগ্র বামপন্থীদের পক্ষ থেকে সরকারি ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের নুনেজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখুন। উগ্র বামপন্থীদের পক্ষ থেকে সরকারি ভবন লক্ষ্যবস্তু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি কোনো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিস্থিতি নয়। আগামীকাল আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না।
এদিকে সম্ভাব্য সহিংসতা ও উত্তেজনা প্রশমনের শেষ চেষ্টা হিসেবে আজই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর। সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
গত মাসে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষকের সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ থেকে এ আন্দোলনের সূত্রপাত।
পরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার মাখোঁ ঘোষণা দেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর আয়োজন ছাড়া অন্য সব বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হবে। এদিকে প্যারিসে রাতের কারফিউ সোমবার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের মধ্যেও সপ্তাহান্তে বড় ধরনের কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে বিক্ষোভকারীদের।