ট্রাম্পের আক্রমণের হুমকি

সহিংসতা মোকাবেলায় স্থানীয় সমাধানই চায় নাইজেরীয়রা

দীর্ঘদিন ধরে নাইজেরিয়ার মুসলিম পশুপালক ফুলানি নৃগোষ্ঠী এবং খ্রিষ্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএস- সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নাইজেরিয়ার মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতা ও সশস্ত্র হামলার মধ্যে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও, অনেক নাইজেরিয়ান নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলতে পারে। খবর এপি ও আলজাজিরা।

দীর্ঘদিন ধরে নাইজেরিয়ার মুসলিম পশুপালক ফুলানি নৃগোষ্ঠী এবং খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএস সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ধর্মীয় কারণে নয়, সহিংসতার মূল কারণ হলো একাধিক অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, জনপদের স্থানচ্যুতি, জমি, পানি ও সম্পদ ব্যবহারের বিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাসহ অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত।

এই পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় আসে যখন ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, নাইজেরিয়া খ্রিস্টানদের সুরক্ষা না দিলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে এবং দেশটিকে দেয়া সহায়তা বন্ধ করবে। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাইজেরিয়াকে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তবে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু দাবি করেছেন, দেশটিকে ধর্মীয় অসহিষ্ণু হিসেবে চিত্রিত করা ভিত্তিহীন।

নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষের মতে, বাইরের সামরিক অভিযান পরিস্থিতি আরো জটিল করবে। এই সহিংসতার কারণে মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়েই প্রাণ হারাচ্ছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগীরাও বলছেন, দুই সম্প্রদায়ের মানুষই পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও জীবিকা হারিয়েছেন।

আবুজায় বসবাসকারী ফুনমিলায়ো ওবাসা বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালায়, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়ে যেতে পারে। এতে বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট শুধু বাড়বেই।’

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটি ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সহিংসতাকে একপাক্ষিক ধর্মীয় সংঘাত হিসেবে দেখানো বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

এদিকে নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল বৈদি শাইবু নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরো জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, নতুন সরঞ্জাম ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে যাতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান সফল হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতা কমাতে শুধু সামরিক অভিযানই যথেষ্ট নয়। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার, স্থানীয় শান্তি উদ্যোগ, জমি বিরোধ ব্যবস্থাপনা এবং বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপও প্রয়োজন।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা বলছেন, বিদেশী বাহিনী নয়, নাইজেরিয়া সরকারকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের আশা, সরকার দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিলে সহিংসতা কমবে এবং জনগণ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে।

আরও