জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির আশংকায় নিজেদের প্রতিরক্ষা
সংক্রান্ত এলাকা থেকে চীনের তৈরি নজরদারি ক্যামেরা সরিয়ে নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। খবর
বিবিসি।
সম্প্রতি নজরদারি সরঞ্জামের ওপর অডিট করতে
গিয়ে দেখা যায়, সরকারি স্থাপনায় থাকা ৯০০টি ক্যামেরা চীনের হিকভিশন ও ডাহুয়ার তৈরি।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র গত বছর একই ধরনের
পদক্ষেপ নেয়। তাদের আশংকা ছিল, এই সব ডিভাইসের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তথ্য প্রবাহে চীন
প্রবেশ করতে পারে।
অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায়
চীনা রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান হিকভিশন জানায়, এই আশংকা ভিত্তিহীন। তবে ডাহুয়া মন্তব্যের
অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
অস্ট্রেলিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি
জেনারেল বিভাগসহ ২০০টির বেশি সরকারি স্থাপনায় চীনা ক্যামেরা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার
করা হয়। তবে প্রতিরক্ষা বিভাগে কতটি ইউনিটে এ ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে তা জানা যায়নি।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী
রিচার্ড মার্লেস আজ বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বলেন, প্রতিরক্ষা বিভাগকে ‘সম্পূর্ণ
সুরক্ষিত’ রাখার জন্য ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
দেশটির সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী
জেমস প্যাটারসন জানান, ডিভাইস থেকে সংগৃহীত তথ্য চীনা গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গেছে
কিনা তা জানার কোনো প্রযুক্তি অস্ট্রেলিয়ার হাতে নেই।
এর আগেও চীনের প্রযুক্তি নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন
করেছিলে ক্যানবেরা। ২০১৮ সালে হুয়াওয়েকে তার ফাইভজি নেটওয়ার্ক থেকে নিষিদ্ধ করায়
চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান কিছু পণ্য নিষিদ্ধ
করে ও শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। তবে ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসা অস্ট্রেলিয়ার নতুন সরকার সম্পর্ক
উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়।
সপ্তাহখানেক আগে চীনের ‘নজরদারি বেলুন’ নিয়ে
যুক্তরাষ্ট্র কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল।