চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন। গতকাল স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। নগচু শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নগচু অঞ্চলের জনবিরল ও উঁচু এলাকায় অবস্থিত একটি জেলায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার বা ১৫ হাজার ৯৬০ ফুট।
গতকাল দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিট নাগাদ আহত ৩২ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর বলে উল্লেখ করে সিনহুয়া। বাকি ২১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছের একটি গ্রামে অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের কয়েকটি গ্রামের কিছু বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
স্থানীয় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের পর লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। কেউ খোলা জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন, কেউ আবার রাস্তায় রাখা গাড়িতে অবস্থান করছেন। এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, শক্তিশালী কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বাড়ি শব্দ করে কাঁপছিল।
সিইএনসি জানিয়েছে, স্থানীয় এলাকায় ভূমিকম্পটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাচ্ছে স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দল। এদিকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ৩ ও ৪ মাত্রার কয়েকটি ছোট কম্পনও রেকর্ড করা হয়েছে বলে সিইএনসির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।