ট্রাম্প বনাম জেনারেল কেইন: ইরান আক্রমণের সতর্কতা ঘিরে হোয়াইট হাউসে অস্বস্তি

ট্রাম্পের দাবি, কেইন কখনো ইরান আক্রমণের বিরোধিতা করেননি এবং প্রয়োজনে ‘জয়ী হওয়ার জন্যই’ প্রস্তুত।

এক বৈঠকে কেইন প্রেসিডেন্টকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি ও আঞ্চলিক মিত্ররা নিরুৎসাহিত হওয়ায় ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ মোকাবেলায় জটিলতা তৈরি করতে পারে। মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ নানা অস্ত্র ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব অস্ত্র কাজে লাগানো নাও যেতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান আক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয় যে, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তাকে সতর্ক করেছেন যে, ইরান আক্রমণ যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়াতে পারে এবং এতে মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। খবর আল জাজিরা।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, গত সপ্তাহের এক বৈঠকে কেইন প্রেসিডেন্টকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি ও আঞ্চলিক মিত্ররা নিরুৎসাহিত হওয়ায় ইরানের পাল্টা প্রতিরোধ মোকাবেলায় জটিলতা তৈরি করতে পারে। মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ নানা অস্ত্রভাণ্ডার ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে এসব অস্ত্র কাজে লাগানো নাও যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরেকটি প্রতিবেদনে অনলাইন মাধ্যম অ্যাক্সিওস জেনারেল কেইনকে ইরানের ব্যাপারে একজন 'অনিচ্ছুক যোদ্ধা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা জানায়, ইরান ইস্যুতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কেইনই এককভাবে ট্রাম্পকে ব্রিফ করছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে জানুয়ারি থেকে কোনো বৈঠকে ডাকানো হয়নি বলেও তথ্যে উঠে আসে। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ পরিকল্পনায় কেইন আগ্রহী থাকলেও ইরান প্রসঙ্গে তিনি তুলনামূলক সতর্ক মনোভাব দেখাচ্ছেন—এমন দাবিও প্রতিবেদনে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প এসব খবরকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, কেইন কখনো ইরান আক্রমণের বিরোধিতা করেননি এবং প্রয়োজনে ‘জয়ী হওয়ার জন্যই’ প্রস্তুত।

ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করছেন। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক সমাবেশ ঘটেছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তাৎক্ষণিক হুমকি না দিলেও একতরফা আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। অন্যদিকে ইরান আলোচনার আশা প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপের নানান শর্ত অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে।

আরও