স্বীকৃতি না দিলেও, তালেবান সরকারের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক রাখছে অনেকেই

সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক তৎপরতায় বেশ এগিয়েছে তালেবান। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়াকে অনুসরণ করে এবার তালেবানের সঙ্গে খোলাখুলি সম্পর্ক স্থাপনে উৎসাহী হবে আরো বেশ কিছু দেশ।

২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসে তালেবান সরকার। দীর্ঘ চার বছর ধরে আফগানিস্তানের শাসনভার সামলে চললেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভে ব্যর্থ তারা। তবে সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক তৎপরতায় বেশ এগিয়েছে তালেবান। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়াকে অনুসরণ করে এবার তালেবানের সঙ্গে খোলাখুলি সম্পর্ক স্থাপনে উৎসাহী হবে আরো বেশ কিছু দেশ। খবর আল জাজিরা।

কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি না দিলেও অর্থনৈতিকভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়েছে চীন।
যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছাড়ার আগেই, ২০১৯ সালেই শান্তি আলোচনার জন্য তালেবান নেতাদের আমন্ত্রণ জানায় বেইজিং। তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে।

২০২৩ সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিএনপিসি’র একটি সহযোগী সংস্থা আমু দরিয়া নদীর তলদেশ থেকে তেল উত্তোলনের জন্য তালেবানের সঙ্গে ২৫ বছরের চুক্তি করে। এই চুক্তিই ছিল তালেবান শাসনামলে প্রথম বড় বিদেশি বিনিয়োগ। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানের সাবেক মুখপাত্র বিলাল কারিমকে ‘চীনে তালেবান প্রতিনিধি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়া, চলতি বছরের মে মাসে চীন তালেবান ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজন করে, যা চীনের কূটনৈতিক সক্রিয়তার বড় নিদর্শন।

তালেবান প্রসঙ্গে অবস্থান পাল্টেছে ভারতও। তালেবানের প্রথম শাসনামলে দফায় দফায়
নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করলেও দ্বিতীয় দফায় পাকিস্তান-তালেবান সম্পর্কের টানাপড়েনের সুযোগ নিয়েছে নয়াদিল্লী। ২০২১ সালে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া দূতাবাস আবার চালু করা হয়, কূটনীতিকদের পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি দুবাইয়ে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আর মে মাসে মুত্তাকির সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

নিরাপত্তাকে অগ্রাধিতার দিয়ে তালেবানের দিতে হাত বাড়িয়েছে ইরানও।
১৯৯০-এর দশকে তালেবানের প্রতি ছিল ইরানের তীব্র বিরূপ মনোভাব। তবে বর্তমানে তালেবানের সঙ্গে গোপনে ও প্রকাশ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলছে তেহরান। চলতি বছরের মে মাসে ‘তেহরান ডায়ালগ ফোরাম’-এ অংশ নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।

তবে একসময়কার মিত্র পাকিস্থানের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ শীতল। সীমান্ত সংঘর্ষ ও আফগান শরণার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর জেরে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে উঠছে। তবে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশের সরকারই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বীকৃতি না দিয়েও বাস্তবতার চাপে অনেক দেশই তাদের সঙ্গে কাজ করছে। এটা কেউই স্বেচ্ছায় করছে না, বরং কৌশলগত ও নিরাপত্তার বাস্তবতায় বাধ্য হয়ে করছে। তিনি মনে করেন, রাশিয়ার পরে মধ্য এশিয়ার কিছু দেশ, এমনকি চীনও তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে পারে।

আরও