তুরস্কের বিরুদ্ধে চার দশকের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। শুক্রবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় একটি ক্ষুদ্র ও প্রতীকী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। যেখানে পিকেকের ২০ থেকে ৩০ জন যোদ্ধা অস্ত্র ধ্বংস করে দেন। খবর আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মাধমে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও রক্তপাতের ছায়ায় থাকা একটি অধ্যায়ের শেষ হচ্ছে। তাদের এই পদক্ষেপ কেবল অস্ত্র-সমর্পণ নয়, বরং অস্ত্র ধ্বংস। সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব সিদ্ধান্তে, কোনো রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে না গিয়ে নিজেরাই এ পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে পিকেকে। কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা এই প্রতীকী প্রক্রিয়াটি গ্রীষ্মকালজুড়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান। এই ঘটনাকে দেশের পায়ে পরানো রক্তাক্ত শিকল ছিঁড়ে ফেলার মুহূর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শুধু তুরস্ক নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বয়ে আনবে।
গত মে মাসে পিকেকে ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা তাদের সশস্ত্র লড়াই বন্ধ করে নতুনভাবে রাজনৈতিক পথে অগ্রসর হবে। বহুদিন ধরে তুরস্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত এই গোষ্ঠীর এমন রূপান্তর আন্তর্জাতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ।
তুরস্কের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ কুর্দি। পিকেকে তাদের বিদ্রোহ শুরু করেছিল কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে। তবে সময়ের সঙ্গে তারা সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন ও কুর্দি অধিকারের দাবিতে মনোনিবেশ করে। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের কুর্দি অঞ্চল থেকে বহু মানুষ সহিংসতা এড়িয়ে উত্তরের বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। গৃহযুদ্ধের মতো অবস্থায় গোটা প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে সহিংসতার মধ্যে।
সশস্ত্র সংঘাত থেকে স্বেচ্ছাসেবীভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও আইনের পর্যায়ে যাওয়ার এই রূপান্তর একটি ঐতিহাসিক অর্জন বলে অভিহিত করেছেন সংগঠনের কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওজালান। ৭৬ বছর বয়সী আব্দুল্লাহ ওজালান ১৯৯৯ সাল থেকে ইস্তানবুলের দক্ষিণ-পশ্চিমে মারমারা সাগরের একটি দ্বীপের কারাগারে বন্দি। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুসারীদের অস্ত্র ত্যাগ ও সংগঠন ভেঙে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। সে সময় কারাগার থেকে লেখা এক চিঠিতে ওজালান বলেছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা অর্জন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। গণতান্ত্রিক ঐকমত্যই মৌলিক পথ।