ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আকাশপথে বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনের হামলায় হতাহতের ঘটনার পর সোমবার শহরটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবর রয়টার্স।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেদ্দার পর দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরের স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিচালনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
শনিবারের হামলার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। রোববারের আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় এক ডজন মানুষ আহত হন।
এসব হামলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাতে অন্যতম বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের কারণে আগে থেকেই চাপে থাকা এ খাতের সংকট আরো বাড়িয়েছে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চমূল্য, যা এয়ারলাইনসগুলোর মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিমান চলাচলবিষয়ক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা পর্যন্ত রিয়াদের বিমানবন্দরের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৮২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে। দিনের শেষে বাতিলের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর মিলিয়ে ফ্লাইট বাতিলের হার ছিল ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, সোমবার উড়োজাহাজগুলো রিয়াদের আকাশ এড়িয়ে চলেছে। তবে সৌদি আরবের আকাশসীমা দিয়ে অন্যান্য বিমান চলাচল করেছে এবং দেশটির পশ্চিম উপকূলের প্রধান বিমান চলাচলকেন্দ্র জেদ্দায় উড়োজাহাজ অবতরণ করেছে।
হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন এয়ারলাইনস সৌদি আরবের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবে বা দেশটির আকাশসীমার ওপর দিয়ে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করে শুক্রবার সৌদি আরবের আকাশসীমা নিয়ে সতর্কতা আরও বিস্তৃত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা ইএএসএ।
লুফথানসা গ্রুপ আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম সৌদি রাজধানীতে যাতায়াতকারী ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
আবুধাবিভিত্তিক ইতিহাদ এয়ারওয়েজও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এতে সোমবার ও মঙ্গলবার রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের প্রায় ২০টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের অর্থনীতিতে এর বিস্তৃত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছর দেশটির প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তেল খাতে কার্যক্রম কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণ এ সংকোচনের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে হামলার কারণে চলতি মাসে রিয়াদে নির্ধারিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের প্রধান বিনিয়োগ সম্মেলন এবং ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের (ডব্লিউপিসি) এনার্জি কংগ্রেস। এসব অনুষ্ঠানের সূচি থেকে বেশ কয়েকজন শীর্ষ তেল নির্বাহীর নামও বাদ দেয়া হয়েছে।